নাতনি ধর্ষণ ও দাদিকে হত্যার আসল রহস্য উদঘাটন

  • পাবনা প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
নাতনি ধর্ষণ ও দাদিকে হত্যার আসল রহস্য উদঘাটন

ছবি: প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার কালিকাপুর গ্রামে দাদি ও নাতনিকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মাদ্রাসাছাত্রী জামিলা আক্তার সেতুকে হত্যা করা হয় এবং বাধা দিতে গেলে তাঁর দাদি সুফিয়া বেগমকেও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে প্রধান অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার শরিফুল ইসলাম (৩০) ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি কখনও গাড়িচালক, কখনও হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। সন্দেহভাজন হিসেবে আটক রাব্বি মণ্ডল নামের আরেকজনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর সুফিয়া বেগম (৬৫) ছেলে জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে বসবাস করতেন। জয়নালের স্ত্রী না থাকায় তাঁর মেয়ে জামিলা আক্তার সেতু (১৫) দাদির সঙ্গে একই বাড়িতে থাকত। জামিলা কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তাঁর বাবা ঢাকায় কাজ করতেন।

গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত নয়টার দিকে জামিলা ও তাঁর দাদি ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো এক সময় তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরদিন শনিবার সকালে বাড়ির প্রবেশমুখ থেকে সুফিয়া বেগমের মরদেহ এবং বাড়ির পেছনে ক্ষেতের আইল থেকে জামিলার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত সুফিয়া বেগমের মেয়ে মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেন। মামলা নম্বর ০১, তারিখ ০১/০৩/২০২৬। ঘটনার পরপরই রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল মাঠে নামে। স্থানীয় সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, শরিফুলের সঙ্গে নিহত পরিবারের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল এবং বাড়িতে যাতায়াতের সুবাদে সে জামিলার প্রতি অসদুদ্দেশ্য পোষণ করত। ঘটনার রাতে বাড়িতে প্রবেশ করলে সুফিয়া বেগম তাকে চলে যেতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথমে তিনি দাদির ওপর হামলা চালান। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে জামিলার ওপরও আক্রমণ করেন। পুলিশ জানায়, হামলার পর তাকে বাড়ির পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

রোববার দুপুরে গ্রেপ্তার শরিফুলকে নিয়ে তাঁর দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতুড়ি, একটি বাঁশের খাটিয়া, একটি কাঠের বাটাম ও তাঁর ব্যবহৃত একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড চাওয়া হবে।

এসএইচ 
 

Link copied!