বীমা কোম্পানির নিবন্ধন ফি বাড়িয়ে অতিরিক্ত আদায়ের নির্দেশ আইডিআরএ’র

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
বীমা কোম্পানির নিবন্ধন ফি বাড়িয়ে অতিরিক্ত আদায়ের নির্দেশ আইডিআরএ’র

ফাইল ছবি

ঢাকা: চলতি ২০২৬ সালের নিবন্ধন নবায়নের জন্য সংশোধিত ‘বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা-২০১২’ অনুযায়ী অবশিষ্ট ফি পরিশোধে বীমা কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। তবে কোম্পানিগুলোর দাবি, তারা আগেই পূর্বের হার অনুযায়ী ২০২৬ সালের নিবন্ধন ফি পরিশোধ করেছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত ফি আদায়ের নির্দেশকে অযৌক্তিক ও আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

পরিশোধিত ফি ভুতাপেক্ষাভাবে বাড়িয়ে আদায়ের সুযোগ বীমা আইন, ২০১০-এ নেই। একইভাবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন-এও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এ ধরনের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। ফলে আইডিআরএ’র সাম্প্রতিক নির্দেশনা কতটা আইনসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

খাতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের পর বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান ‘দুয়ার সার্ভিস লিমিটেড’-এর বিল পরিশোধে আপত্তি তোলে বীমা কোম্পানিগুলো। এর পরিপ্রেক্ষিতে এসএমএস সেবা বিনা মূল্যে দেওয়ার যুক্তিতে নিবন্ধন নবায়ন ফি সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংশোধিত হারে ফি না দিলে কিছু কোম্পানির নিবন্ধন নবায়ন আটকে রাখার কথাও বলা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, নিবন্ধন ছাড়া কোনো বীমা কোম্পানির ব্যবসা পরিচালনা করা যায় না। প্রতি বছরের নিবন্ধন নবায়নের আবেদন করতে হয় আগের বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। ফি নির্ধারিত হয় সর্বশেষ হিসাব সমাপনী বছরে সংগৃহীত মোট গ্রস প্রিমিয়ামের ভিত্তিতে।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি সরকার ‘বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা-২০১২’ সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করে। এরপর ১৯ ফেব্রুয়ারি আইডিআরএ কোম্পানিগুলোকে বর্ধিত হারে ফি পরিশোধের নির্দেশ দেয়।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রতি হাজার টাকা গ্রস প্রিমিয়ামে নিবন্ধন নবায়ন ফি হবে ২ টাকা ৫০ পয়সা। ২০২৯ থেকে ২০৩১ সালে তা হবে ৪ টাকা এবং ২০৩২ সাল ও পরবর্তী সময়ে ৫ টাকা। আগে এই হার ছিল প্রতি হাজারে ১ টাকা।

বীমা খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে যে ফি পরিশোধ করা হয়েছে, তা ২০২৪ সালের গ্রস প্রিমিয়ামের ভিত্তিতে নির্ধারিত এবং ২০২৫ সালের ব্যয় হিসেবে হিসাবভুক্ত। এখন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে অতিরিক্ত ফি পরিশোধ করতে বলা হলে তা হিসাব ও নিরীক্ষা প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করবে।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম (বিআইএফ)-এর সেক্রেটারি জেনারেল বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. শফিক শামীম পিএসসি (অব.) বলেন, ২০২৬ সালের জন্য বর্ধিত ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তাঁর মতে, নতুন হার ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর করলে কোম্পানিগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবে।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) এস এম নুরুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে পরিশোধিত ফি ২০২৬ সালে এসে বাড়ানো যুক্তিসংগত নয়। অন্তত চলতি নবায়নের ক্ষেত্রে পূর্বের হার বিবেচনা করা যেতে পারে।

এএইচ/পিএস

Link copied!