বাজেটে আবাসন খাতে প্রত্যাশিত প্রতিফলন দেখা যায়নি: রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
বাজেটে আবাসন খাতে প্রত্যাশিত প্রতিফলন দেখা যায়নি: রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট

ফাইল ছবি

ঢাকা: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আমরা এখনও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করছি। তবে এ পর্যন্ত যে বিষয়গুলো আমাদের নজরে এসেছে, তাতে আবাসন খাতের জন্য প্রত্যাশিত কোনো কার্যকর নীতিসহায়তা বা প্রণোদনার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং নির্মাণসামগ্রীর ওপর নতুন কর ও শুল্ক আরোপের ফলে নির্মাণ ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিশেষ করে রডের ওপর সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপ নির্মাণ ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দেবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ফ্ল্যাটের মূল্য এবং সাধারণ ক্রেতাদের ওপর।

রিহ্যাব দীর্ঘদিন ধরে ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধন ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছে। 

আলী আফজাল বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, নিবন্ধন ব্যয় কমানো হলে প্রকৃত লেনদেন বৃদ্ধি পাবে, আবাসন খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। কিন্তু এবারের বাজেটে এ বিষয়ে আমাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

আবাসন খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এই খাতের সঙ্গে প্রায় ২৬৯টি লিংকেজ শিল্প প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। 

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, আবাসন খাতের গতি কমে গেলে শুধু ডেভেলপার বা ক্রেতারা নয়, রড, সিমেন্ট, সিরামিক, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, আসবাবপত্র, পরিবহনসহ অসংখ্য শিল্প এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার ফলে আবাসন খাত আরও সংকুচিত হলে তার নেতিবাচক প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও পড়বে।

আমরা মনে করি, দীর্ঘমেয়াদে আবাসন খাতকে শক্তিশালী করতে হলে নিবন্ধন ব্যয় কমানো, গৃহায়ণবান্ধব করনীতি প্রণয়ন, দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পসুদে অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি এবং একটি স্থিতিশীল বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, বাজেট-পরবর্তী আলোচনায় আবাসন খাতের বিষয়ে রিহ্যাবের উত্থাপিত প্রস্তাব ও দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হোক। কারণ আবাসন খাতকে গতিশীল করা মানেই দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করা।

‘স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন’ এর বিষয়কে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। তবে এই বিষয়ে আমরা আরো পর্যালোচনা করে আমাদের অভিমত জানাবো।

এএইচ/পিএস

Link copied!