বাজেটে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ, ডিএসইর ধন্যবাদ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
বাজেটে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ, ডিএসইর ধন্যবাদ

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার দায়িত্বভার গ্রহণের পর বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এমপি প্রথমবারের মতো বাজেট পেশ করেন। অর্থমন্ত্রী কর্তৃক প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে সহায়ক নীতিমালা গ্রহণ করায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম অর্থমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ ও বিশেষ গুরুত্বারোপের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের প্রত্যাশা ও প্রস্তাবনাসমূহ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সেগুলোর বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য তিনি মাননীয় অর্থমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এছাড়া দেশের পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণে মাননীয় অর্থমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়োপযোগী দিকনির্দেশনার জন্য ডিএসই’র চেয়ারম্যান গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকারের সক্রিয় আগ্রহ ও আন্তরিকতা সাম্প্রতিক বিভিন্ন নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথমবারের মতো পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী নিয়োগ এবং মাননীয় অর্থমন্ত্রীর বিভিন্ন বক্তব্যে পুঁজিবাজারের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ বাজার-সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে নতুন আশাবাদ ও ইতিবাচক প্রত্যাশার সৃষ্টি করেছে।

তিনি আরও বলেন, রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ এবং পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারে প্রস্তাবিত বাজেটে গৃহীত উদ্যোগ দেশের পুঁজিবাজারের আধুনিকায়নে একটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ। এ উদ্যোগের ফলে বাজার পরিচালনায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং একটি সমন্বিত, কার্যকর ও শক্তিশালী বাজার অবকাঠামো গড়ে উঠবে, যা দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ডিএসই বিশ্বাস করে, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক মনোযোগ, কার্যকর নীতিগত সহায়তা এবং সময়োপযোগী সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ফলে দেশের পুঁজিবাজার আগামী দিনে আরও গতিশীল, গভীর ও বিনিয়োগবান্ধব হয়ে উঠবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা সুদৃঢ় হবে এবং বাজারের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

ডিএসই চেয়ারম্যান বিশেষভাবে নিটা হিসাব পরিচালনা প্রক্রিয়া সহজীকরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ পুঁজিবাজারে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাজারের গভীরতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ডিএসই ইতোমধ্যে বিদ্যমান T+2 সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা থেকে T+1 এবং পর্যায়ক্রমে T+0 সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে লেনদেন নিষ্পত্তি আরও দ্রুত, নিরাপদ ও দক্ষ হবে এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত বাজার অবকাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

ডিএসই মনে করে, পুঁজিবাজারের প্রতি সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সংস্কারমুখী পদক্ষেপ দেশের ক্রমবিকাশমান পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও টেকসই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ প্রেক্ষাপটে, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷

এএইচ/পিএস

Link copied!