একদিকে ছাড় অন্যদিকে আরোপ, শঙ্কা কাটছে না নিন্ম আয়ের মানুষের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
একদিকে ছাড় অন্যদিকে আরোপ, শঙ্কা কাটছে না নিন্ম আয়ের মানুষের

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে দুর্বিসহ হয়ে ওঠে নিন্ম ও স্বল্প আয়ের মানুষ। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। কাট ছাট করতে হয় বাজার খরচের। আমিষের পরিমাণ কমিয়ে দিতে বাধ্য হয় এসকল পরিবার। এমন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ দিতে আগামী বাজেটে নিত্য ও ভোগ্যপণ্যে করছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সরকার। আবার অন্যদিকে বাজেট প্রস্তাবে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহের ওপর দশমিক ২ শতাংশ হারে অগ্রিম কর আরোপের কথা বলা হয়েছে। এতে প্রতি ১ হাজার টাকায় ২ টাকা অগ্রিম কর কেটে রাখা হবে। এতে নিত্যপণ্যের দাম নাগালে আসার নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
 
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্য, যেমন-ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ, ১ শতাংশ হতে হ্রাস করে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি। এছাড়া আমদানি করা শিশুখাদ্য প্রস্তুতিমূলক সামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে (শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে)।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এতে বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমবে। জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়া ইত্যাদি মসলায় ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তবে সরকারের এই পদক্ষেপ মাঠ পর্যায়ের ভোক্তারা কতটুকু ভোগ করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। ভোক্তারা বলছেন, দেশে কোন কিছুর দাম একবার বাড়লে তা কখনো কমে না। এজন্য এই করছাড়ের সুবিধা মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরাই ভোগ করবে।

অন্যদিকে করের আওতা সম্প্রসারণের জন্য এবারের বাজেটে খুচরা ব্যবসায়ীদের এই প্রথম করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। বাজেট প্রস্তাবে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহের ওপর দশমিক ২ শতাংশ হারে অগ্রিম কর আরোপের কথা বলা হয়েছে। এতে প্রতি ১ হাজার টাকায় ২ টাকা অগ্রিম কর কেটে রাখা হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য করের হার বৃদ্ধি নয়; বরং করের ভিত্তি সম্প্রসারণ। এই উদ্দেশ্যে কয়েকটি বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। করভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহে দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের প্রস্তাব করছি। সংগৃহীত এই অগ্রিম করের পরিমাণ হবে অতি নগণ্য, প্রতি ১ হাজার টাকায় মাত্র ২ টাকা। এতে দেশের লাখ লাখ খুচরা ব্যবসায়ীর ওপর করের বোঝা চাপতে পারে। পণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কার কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে স্থানীয় খুচরা মুদিদোকান করের আওতায় আসবে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির হিসাবে, দেশে প্রায় ৭০ লাখ খুচরা বিক্রেতা আছেন। তাঁরা করের আওতায় চলে আসবেন। করের বিষয়টি নিয়ে ক্ষুদ্র পাইকারি ব্যবসায়ীরা চিন্তিত। তাঁরা বলছেন, ক্ষুদ্র পাইকারি বিক্রেতাদের মুনাফা সীমিত। সেখানে ২ টাকা কর কীভাবে দেওয়া সম্ভব, সেই প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।

পিএস

Link copied!