• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

মাদারীপুরের প্রভাবশালী মহলের কবলে ঐতিহাসিক খাল


মাদারীপুর প্রতিনিধি জুন ২৬, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
মাদারীপুরের প্রভাবশালী মহলের কবলে ঐতিহাসিক খাল

ছবি প্রতিনিধি

মাদারীপুরের শিবচরে কলাতলা থেকে শুম্ভক পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ঐতিহাসিক খাল প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখল ও পলি জমে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম সেচসংকট ও স্থায়ী জলাবদ্ধতায় পড়েছেন বহেরাতলা দক্ষিণ ও বাঁশকান্দি ইউনিয়নের হাজারো কৃষক।

স্থানীয় বাসিন্দা তারা মিয়া খালাসি (৭৬) আক্ষেপ করে বলেন, এই খালের স্রোতস্বিনী প্রবাহ চলমান রাখার জন্য তিনি ১৯৮৩-৮৪ সালের দিকে খালের উৎস ও শেষ প্রান্তে স্লুইস গেট নির্মাণসহ পুরো খালটি সংস্কারের একটি পরিকল্পনা জমা দিয়েছিলেন। নানা কারণে তখন তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এখন সরকার যদি যথাযথ প্রক্রিয়ায় খালটি পুনঃখনন করে, তবে তারা স্বাগত জানাবেন।

বহেরাতলা এলাকার বাসিন্দা আঃ মান্নান (৬৩) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদের সঙ্গে খালের সংযোগ না থাকায় জোয়ার-ভাটার পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জমিতে উর্বর পলিমাটি আসে না। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে জমিতে সেচ দেওয়া যায় না, আবার বর্ষায় অতিবৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পানি আটকে থাকায় খাল ও বিলের পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং এলাকায় মশা ও পানিবাহিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এই চরম ভোগান্তি থেকে এলাকাবাসীকে বাঁচাতে আড়িয়াল খাঁ নদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে খালটি জরুরি ভিত্তিতে পুনঃখনন করা প্রয়োজন।

সরকারের চরের মো. হাবিবুর রহমান (৬৪) ও ছলেনামা গ্রামের মো. দাদন মুন্সী (৬৮) জানান, ১৯৯৮ সালের বন্যার পর বালু জমে এবং অবৈধ দখলের কারণে খালের উৎস মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ চরম পানিসঙ্কটে ভুগছেন। একসময় যে পাটের জাগ তারা অনায়াসে খেতেই দিতে পারতেন, এখন পানির অভাবে সেই পাট মাথায় করে দূর-দূরান্তের ডোবায় নিতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ বাড়ছে এবং পাটের গুণগত মানও নষ্ট হচ্ছে।

ছলেনামা গ্রামের আঃ জলিল মুন্সী (৬৮) জানান, খালটি যখন সচল ছিল, তখন পলিসমৃদ্ধ মাটিতে ফসল উপচে পড়ত। খালের দুই পাড়ের বিস্তীর্ণ বিল ছিল মৎস্যভাণ্ডার। পালতোলা নৌকা আর ট্রলারে পণ্য পরিবহন এবং মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করত শত শত পরিবার। কিন্তু খালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আজ সেই চেনা ছবি উধাও হয়ে গেছে। শত শত মানুষ পেশা বদলে বাধ্য হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাইখা সুলতানা বলেন, তারা ইতিমধ্যে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। তদন্তে বেদখলকারীর অস্তিত্ব পাওয়া গেলে অবশ্যই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। এ ছাড়া সরকারি জায়গা ও পুরাতন খালের সীমানা নির্ধারণ করে সেখানে লাল পতাকা টাঙিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান জানান, খাল খননে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে। ইতিমধ্যে পাট কর্মকর্তা ও পিআইওর সমন্বয়ে জরুরি ভিত্তিতে খননযোগ্য খালগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে। কলাতলা-সরকারের চর-শুম্ভক খালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দ্রুততম সময়ে খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এসএইচ 

Link copied!