• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

খাল খনন শেষে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা ফেরত দিলেন আমতলীর ইউএনও


বরগুনা প্রতিনিধি আগস্ট ১৩, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
খাল খনন শেষে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা ফেরত দিলেন আমতলীর ইউএনও

ছবি : প্রতিনিধি

বরগুনা: অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় খাল খননের কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা ফেরত দিয়েছেন বরগুনার আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী।

জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় গত ৮ এপ্রিল আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কেওয়াবুনিয়া খালের ৩ কিলোমিটার খননের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা এবং হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া খালের ২ কিলোমিটার খননের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুই প্রকল্পে মোট ৩৯৭ জন অতিদরিদ্র উপকারভোগী খননকাজে অংশ নেন।

প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন ও খননকাজের সার্বিক তদারকি করেন ইউএনও মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী। নির্ধারিত কাজ শেষ হওয়ার পর অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়। খাল খননের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছও রোপণ করা হয়েছে।

ইউএনওর এমন উদ্যোগকে প্রশংসা করছে স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা ফখরুদ্দিন তহসিন মৃধা ও মো. রাশিমুল হক রিমন বলেন, “কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে এত টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনা আমতলীতে বিরল। সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা যদি এভাবে সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেন, তাহলে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে।”

কেওয়াবুনিয়া খালের পাড়ের বাসিন্দা ও প্রকল্পের উপকারভোগী এইচএম কাওসার মাদবর ও রুবেল হাওলাদার বলেন, খালটি খননের ফলে এলাকার প্রায় ২০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। শুকনো মৌসুমে সেচের পানির সংকটে রবি শস্য চাষে কৃষকদের যে সমস্যায় পড়তে হতো, খাল খননের ফলে তা অনেকটাই কমবে। খালের পানি ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বাড়বে বলেও আশা করেন তারা। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের ফলে এলাকার সৌন্দর্যও বেড়েছে।

আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দিকনির্দেশনা ও প্রকল্পের কার্যাদেশ অনুযায়ী খননকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কাজ শেষে অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”

ইউএনও মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “খাল খনন সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। খাল খননের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। কাজ শেষ করে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রী তাকে এবং দেশের আরও ৮৩ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য ডেকেছিলেন। সেখানে খাল খননের সুফল, সৌন্দর্যবর্ধন এবং উপজেলা উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উপজেলা পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

পিএস

Link copied!