ছবি : প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ: তথ্য চাওয়ায় ময়মনসিংহে এশিয়ান টেলিভিশনে কর্মরত জেলা প্রতিনিধি আবুল মনসুরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন পৌর ভূমি অফিসের নায়েব আবুল কালাম। বুধবার দুপুরে ভূমি অফিসের নায়েবের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ওই সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ভেঙ্গে ফেলা হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আবুল মনসুর।
এশিয়ান টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আবুল মনসুর জানান, বুধবার দুপুরে একটি অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও সংবাদ সংগ্রহের জন্য শহরের বাসাবাড়ি পৌর ভূমি অফিসের নায়েবের কার্যালয়ে যাই। চর কালীবাড়ি এলাকার একজন বয়স্ক নারী হাজেরা খাতুন অভিযোগ করেন যে, পৌর ভূমি অফিসের নায়েব তার কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা নিয়েছেন কিন্তু কাজ করেননি। অভিযোগটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমি নায়েবের বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে যাই।
এ সময় অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নায়েব আমার সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন এবং বলেন, ‘আপনি আমাকে চেনেন?’ এরপর তিনি দরজা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং ‘দড়ি আন, বেঁধে ফেলব’ জাতীয় হুমকিমূলক কথা বলেন। এরপর নায়েবের সঙ্গে থাকা একজন পিয়নসহ কয়েকজন কর্মচারী আমার ওপর চড়াও হন। তারা আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন, অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং আমার হাতে থাকা মোবাইল ফোন টান দিয়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে ভেঙে ফেলেন। পুরো ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ অংশটি সংশ্লিষ্ট অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হওয়ার কথা রয়েছে। ঘটনার পর বিষয়টি এসি ল্যান্ডকে জানালে তিনি জেলা প্রশাসককে জানাতে বলেন। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে উনাকে না পেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।
একজন সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি ভূমি অফিসের অভ্যন্তরে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে একজন বয়স্ক নারীর করা ২৪ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। এই অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের দুর্নীতির কারণে সাধারন মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। আর্থিকভাবে ক্ষতি হচ্ছে ভুক্তভোগীরা। তারপরও নীরবে চোখ বন্ধ করে আছে প্রশাসন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, মোবাইল ফোন ভাঙচুর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণসহ প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট নায়েবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ২৪ হাজার টাকা গ্রহণের অভিযোগটিও তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হয় অভিযোগে।
এবিষয়ে জানতে পৌর ভূমি অফিসের নায়েব আবুল কালামকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পিএস







































