• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

পাইলটের মৃত্যুর নেপথ্যে কি হাসিনার সেই ভাইরাল ভিডিও?


সোনালী ডেস্ক অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১১:২৬ এএম
পাইলটের মৃত্যুর নেপথ্যে কি হাসিনার সেই ভাইরাল ভিডিও?

ফাইল ছবি

নিখোঁজের দুই দিন পর তুরাগ নদী থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।এই ঘটনায় কেবল পরিবারেই শোকের মাতম চলছে না, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য ও নানা প্রশ্নের। বিশেষ করে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর এই মৃত্যু নতুন করে নানান জল্পনা ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার শুরু গত বছরের আগস্টে। ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত মুহূর্তে কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের একটিমাত্র ভিডিও চিত্র বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, বিমান বাহিনীর কুর্মিটোলা এয়ারবেইসের অফিসার্স মেসের জানালা থেকে ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফী এবং তা নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। এই ভিডিওর সূত্র ধরেই পরবর্তীতে বিমান বাহিনীর অভ্যন্তরে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয় এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

তবে এই অভিযোগ ও প্রচারের বিরুদ্ধে মৃত্যুর তিন মাস আগে এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন খোদ তাহসিফ সাউরি নিজেই। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁকে জড়িয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, হাস্যকর ও বানোয়াট প্রোপাগান্ডা বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছিলেন, তিনি যদি ভিডিও ছড়িয়েও থাকেন তবে তার পক্ষে যথাযথ কোনো প্রমাণ কারও কাছে নেই। 

তিনি আরও অভিযোগ করেছিলেন, ভিত্তিহীন এই অভিযোগের জেরে তাকে বিমান বাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং দীর্ঘ দুই বছর তার পাসপোর্ট আটকে রাখায় তিনি সিভিল এভিয়েশনে নিজের ফ্লাইং ক্যারিয়ারও এগিয়ে নিতে পারেননি। একজন ট্যালেন্টেড জিডিপি পাইলটের এ ধরনের আক্ষেপ ও ক্ষোভের বিষয়টি তখন বেশ আলোড়ন তুলেছিল।

প্রশ্ন উঠেছে, বিমান বাহিনীর অভ্যন্তরের নানা অনিয়ম ও প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে খোলামেলা কথা বলা এবং নিজের ওপর হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করার ঠিক পরপরই কেন এমন মর্মান্তিক পরিণতি বরণ করতে হলো তাঁকে? তুরাগ নদে তাঁর ভেসে ওঠার বিষয়টি কি নিছকই কোনো দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো গভীর রহস্য?

বিভিন্ন মহলে এখন জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে-এটি কেবল একটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি কোনো পরিকল্পিত নীরবতার চক্রান্ত? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই মৃত্যুর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের বিচারিক তদন্ত দাবি করছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা পেছনের কোনো যোগসূত্র নিশ্চিত করা হয়নি। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই কেবল এই মৃত্যুর আসল রহস্য উন্মোচিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

এসএইচ 

Link copied!