• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১

মিষ্টি হলুদ রঙের সূর্যমুখীতে মেতেছে প্রকৃতি


মোহাম্মদ আমিনুল হক বুলবুল, নান্দাইল   মার্চ ১৯, ২০২৪, ০৫:৩৮ পিএম
মিষ্টি হলুদ রঙের সূর্যমুখীতে মেতেছে প্রকৃতি

নান্দাইল: সূর্যমুখী বাগানে সারি সারি লাগানো ফুলগাছ। হলুদ ফুল আর সবুজ গাছের অপরূপ দৃশ্য।দেখলেই দুচোখ জুড়িয়ে যায়। সবুজ পাতার ভেতর থেকে মাথা উঁচু করে প্রকৃতিতে নিজের সৌন্দর্য জানান দিচ্ছে সূর্যমুখী ফুলগুলো। সামান্য বাতাসেই দুল খাচ্ছে ফুলগলো। সূর্যের সাথে যেন মিতালী হয়েছে ফুলগলোর।

সূর্যমুখীর হাসিতে নজর কেড়েছে ফুল প্রেমিদের। দিগন্তজুড়ে সূর্যমুখী ফুলের হাসি চোখে শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। এ ফুল দেখতে আর সূর্যমুখী বাগানে নিজেদের ছবি, সেলফি তুলতে নানা বয়সী সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ প্রায় প্রতিদিন ভিড় করছেন।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে কানারামপুর- ত্রিশাল সড়কের নাউরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঠিক পিছনে ৫০ শতক জায়গায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে রীতিমতো বাজিমাত করে ফেলেছেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের নাউরি গ্রামের সৌখিন কৃষক নুরুল ইসলাম ও হোসেন আলী শিকদার। 

উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে তারা ৫০’শতক জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেন। সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে কৃষি অফিসসহ সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তারা।

পথচারী’সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া  ছাত্র-ছাত্রী, ফুল ও প্রকৃতি প্রেমিগণ বাগানে আসছে মনকেড়ে নেওয়া দৃশ্য দেখার জন্য। এজন্য ফুলপ্রেমী দর্শনার্থীদের গুণতে হয় মাথাপিছু ২০ টাকা।এ যেন ফুল ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার অন্যরকম অনুভূতি।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রকৃতির মাঝে নিজের সৌন্দর্য ছড়িয়ে  দিচ্ছে সূর্যমুখী ফুলগুলো। সবুজ গাছে ফুটে আছে শত শত সূর্যমুখী ফুল।প্রতিনিয়ত মিষ্টি হলুদ রঙের সূর্যমুখী দেখতে ভিড় করছেন হাজারো দর্শনার্থী। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর- দূরান্ত থেকে আসছেন পর্যটকরা। যেন মিষ্টি হলুদ রঙের সূর্যমুখীতে মেতেছে প্রকৃতি।

স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের মাধ্যমে সূর্যমুখী ফুলের বাগানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিনিয়ত দর্শনার্থী ও সৌন্দর্য পিপাসু মানুষ দল বেঁধে আসছেন বাগান দেখতে। 

বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিমায় সূর্যমুখী ফুলকে পাশে নিয়ে ছবি তুলছেন অনেকেই।কেউ সেলফি তুলতে ব্যস্ত,কেউ ব্যস্ত ফেসবুক আইডিতে ছবি পোস্ট করতে। আবার অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়েও আসছেন সূর্যমুখী ফুলের বাগান দেখতে,সৌন্দর্য উপভোগ করতে। 

সূর্যমূখি বাগানের মালিক নুরুল ইসলাম ও হোসেন আলী শিকদার বলেন,৫০’শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমুখী চাষ করেছি। ফলনও হয়েছে চমৎকার। প্রতিটি গাছে ফুল এসেছে।একদিকে যেমন ফুলের সৌন্দর্য মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অপর দিকে এ ফুলের বীজ বেঁচেও লাভবান হওয়া যায়। সে চিন্তা মাথায় রেখে তারা এ বাগান করেছেন।তাদের এই সফলতা দেখে গ্রামের অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন সূর্যমুখী চাষ করার।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্যান্সার ও হৃদরোগ প্রতিরোধী অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন সূর্যমুখীর তেল অন্যান্য সাধারণ তেলের চেয়ে একটু আলাদা। কোলেস্টেরলমুক্ত প্রচুর পরিমাণে প্রাণশক্তি থাকায় সূর্যমুখী তেল শরীরের দুর্বলতা, কার্যক্ষমতা বাড়াতে সূর্যমুখীর ভূমিকা অনন্য। রান্নার জন্য সয়াবিন তেলের চেয়ে সূর্যমুখী তেল দশগুণ বেশি পুষ্টি সমৃদ্ধ। সূর্যমুখী তেল হাড় সুস্থ ও মজবুত করে। শরীরের ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও কপারের চাহিদা পূরণ করে।

ভিটামিন ‘ই’ সমৃদ্ধ এ তেল শরীরের নানা রকম ব্যথা দূর করতে সহায়তা করে। সূর্যমুখী তেলে থাকা ম্যাগনেসিয়াম  মানসিক চাপ দূর করে। এক কথায় সূর্যমুখী তেল মানব দেহের মহৌষধ হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।

এক মণ বীজে প্রায় ১৮ কেজি তেল পাওয়া যায়। সূর্যমুখী ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়।

দূরদুরান্ত থেকে ছুটে আসা দর্শনার্থীরা জানান, এমন সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ তারা। ফুটে আছে হাজার হাজার হলুদ বর্ণের সূর্যমুখী ফুল। 

ফুলের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে সকাল-বিকাল আসছে দর্শনার্থী।মধুপুর থেকে এসেছেন সিমান্তী ও তার বান্ধবী রিংকি। তারা বলেন,খবর পেয়ে সূর্যমুখী ফুলের বাগান দেখতে এসেছি। ফুলের সৌন্দর্য দেখে আমরা সত্যিই মুগ্ধ। খুব ভালো লেগেছে। 

পরিবারের সাথে বাগানে বেড়াতে এসেছে স্কুল পড়ুয়া নাদিম,অনিক ও রাখি।তারা জানায় এতো সুন্দর দৃশ্য দেখে আমি অভিভূত। খুবই চমৎকার একটি দৃশ্য।আমরা অনেক আনন্দ পেয়েছি। 

ফুলচাষী নুরুল ইসলাম ও হোসেন আলী শিকদার জানান, চলতি মৌসুমে কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে তিনি সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। সফলতার মুখও দেখছেন। আগামী দিনে এই চাষ আরও বাড়াবেন বলে তিনি জানান।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নুসরাত জামান বলেন,বিশ্বে সূর্যমুখী তেলের ৫৮ শতাংশ উৎপাদিত হয় রাশিয়া ও ইউক্রেনে।  রাশিয়া -ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়ে তেলের বাজারে।বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া যে  সূর্যমুখী চাষের উপযোগী নাওরি গ্রামের দুই কৃষক তা করে দেখিয়েছেন। তবে সূর্যমুখী বীজ থেকে তেল বের করার মেশিন সহজলভ্য করলে বা সরকারি প্রনোদনা কর্মসূচীর মাধ্যমে  ভর্তুকী মূল্যে যন্ত্রপাতি দিতে পারলে কৃষকরা আগামীতে এই দামী ও পরিবেশের জন্য উপকারী ফসল করতে আগ্রহী হবে। 

এমএস

Wordbridge School
Link copied!