ফাইল ছবি
মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার জবাবে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে জোরালো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে, ওমান উপসাগরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি এবং প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের কাছে আরও একটি ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে দুদেশের এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে এক চরম ঝুঁকিতে ঠেলে দিয়েছে।
মার্কিন অভিযানের তাৎক্ষণিক জবাবে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। জর্ডান সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে।
এর পরপরই কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরের কাছে থাকা মার্কিন-সংশ্লিষ্ট সব ট্যাংকারের ক্রুদের অবিলম্বে জাহাজ ছেড়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
পাল্টাপাল্টি এই আগ্রাসনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। দিনের শুরুতেই এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দেড় শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৯ দশমিক ৪১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ৯৪ দশমিক ৫৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার পর দেশটি সাময়িকভাবে জ্বালানি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে ইরান যতবার হামলা চালাবে, ততবারই তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তেলবাহী ট্যাংকার হারাতে হবে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি থেকে একটি মার্কিন ড্রোন সাবমেরিন জব্দের দাবি জানিয়েছে ইরানি নৌবাহিনী। একে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালিসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমার নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে সংকটময় সময় পার করছে।
এসএইচ







































