ছবি : প্রতিনিধি
রাজশাহী: বাস মালিকদের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নাটোর-রাজশাহী রুটে মঙ্গলবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে রাজশাহীর সঙ্গে বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিকেল পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, নাটোরের ওপর দিয়ে রাজশাহীর বাস চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে পাল্টা অভিযোগ করে নাটোরের বাস মালিকরা বলেন, তাদের বাস রাজশাহীতে গেলে আটকে দেওয়া হচ্ছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাটোর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের ‘আন্দান পরিবহন’ নামে একটি বাস নির্ধারিত নিয়ম না মেনে চলাচল করায় দুই জেলার মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বাসটি নির্দিষ্ট চেইন বা সময়সূচি না মেনে রংপুর-রাজশাহী রুটে চলাচল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, “নিয়ম ভেঙে বাস চলাচল করায় যাত্রী সংকট তৈরি হয়েছে। নিষেধ করা হলেও তারা তা মানছে না। বরং হুমকি দিচ্ছে- তাদের বাস চলতে না দিলে রাজশাহীর বাসও চলতে দেবে না।”
তিনি জানান, সকালে নাটোরে রাজশাহীর বাস আটকে দেওয়া হয়। পরে রাজশাহীতে ঢোকা বাসগুলো বের করে দেওয়া হলেও নাটোর থেকে নতুন করে বাস ছাড়তে দেওয়া হয়নি। এমনকি ঢাকাগামী বাসের কাউন্টারও নাটোরে বন্ধ থাকায় রাজশাহী থেকেও ঢাকা রুটে বাস ছাড়তে পারেনি।
রাজশাহী থেকে নাটোর হয়ে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, ঢাকা ও খুলনা রুটের বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। তবে পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
দুপুরে রাজশাহী নগরের শিরোইল বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীরা বাস না পেয়ে বিকল্প উপায়ে অন্তত নাটোর পর্যন্ত পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বাস বন্ধ পেয়ে বিপাকে পড়েছি। কোনোভাবে আগে নাটোর পৌঁছাতে পারলেই অন্য ব্যবস্থা নেব।”
এদিকে, বাস আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাটোর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি প্রশান্ত কুমার পোদ্দার লক্ষ্মণ।
তিনি বলেন, “আমরা কোনো বাস আটকাইনি। বরং রাজশাহীতেই আমাদের কয়েকটি বাস আটকে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকেই বাস ছাড়া হচ্ছে না।”
তিনি আরও জানান, আগের দিনের একটি বিরোধ মিটমাট হলেও নতুন করে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ছোট জেলা হওয়ায় নাটোরকে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে যাত্রী ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :