রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র চলতি মাসেই চূড়ান্ত ধাপ চেইন সিলেকশন শুরু

  • ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি  | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র চলতি মাসেই চূড়ান্ত ধাপ চেইন সিলেকশন শুরু

ছবি : প্রতিনিধি

ঈশ্বরদী: এগিয়ে চলছে দেশের প্রথম পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে চুল্লির নিরাপত্তা, সঞ্চালন ব্যবস্থা  ও জাতীয় গ্রিডের প্রস্তুতির কাজ চলছে এবং চলতি মাসেই সেখানে চূড়ান্ত ধাপ নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বা 'চেইন রিয়্যাকশন' শুরু হতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এর আগে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং  সম্পন্ন হয়েছে। চূড়ান্ত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করার আগমুহূর্তে বিদ্যুৎকেন্দ্রের আদ্যোপান্ত আরেকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন বিজ্ঞানীরা।

এদিকে চুল্লিতে পারমাণবিক সক্রিয়তা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার আগে উৎপাদিত বিদ্যুতের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন প্রস্থান নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সঞ্চালন লাইনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে প্রস্তুতি বৈঠক করেছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়।

সোমবার (৮ জুন )মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন সঞ্চালন ও বিতরণ-সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

সভায় মন্ত্রী পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের আগে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবিলা করার জন্য অবিলম্বে প্রস্তুতি নিতে বলেন ও ‘উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন হওয়ায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার আগেই পিজিসিবিকে প্রয়োজনীয় স্টাডি করে কনসেপ্ট পেপার তৈরি করতে বলেন। সেই পেপার বিদেশি কনসালট্যান্ট, যাদের নিউক্লিয়ার পাওয়ার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আছে, তাদের দিয়ে স্টাডি করানো হবে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পারমাণবিক বিদ্যুৎ আসার আগেই সঞ্চালন ও বিতরণ-ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন করা হবে।’

পাবনার রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে গত ২৮ এপ্রিল পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপন করা শুরু হয়। গত ১২ মে কেন্দ্রের চুল্লিতে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এর পর থেকে চূড়ান্ত ধাপে যাওয়ার আগের সবগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়।

বুধবার দুপুরে নিউক্লিয়ার পাওয়ারপ্ল্যান্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছান বলেন, শেষ মুহূর্তে বিদ্যুৎকেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মীরা দিন-রাত কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন। চূড়ান্ত ধাপ অর্থাৎ চেইন সিলেকশন শুরুর আগে আগামী দুই সপ্তাহ ধরে চালানো হবে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ।

এরপর ধীরে ধীরে পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপাদনের মাহেন্দ্রক্ষণ শুরু হবে।

শুরুর দিকে ১০ থেকে ২০ মেগাওয়াট হারে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। পরে ধীরে ধীরে সেই উৎপাদন বেড়ে আগস্টে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এবং ডিসেম্বর নাগাদ পূর্ণ সক্ষমতায় অর্থাৎ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যাবে।

এর আগে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর সকালে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)-এর উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় ও স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রকল্পের সম্পৃক্ততা জোরদারের লক্ষ্যে পাকশী সড়ক ও জনপথ বিভাগের পরিদর্শন বাংলো চত্বরে আয়োজিত প্রায় তিন শতাধিক স্থানীয় কৃষক, মৎস্যজীবী, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও পুরোহিত অংশগ্রহণের এনপিসিবিএল - এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি একটি নির্ভরযোগ্য ও কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎস হিসেবে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, এটি বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় কোনো তাপ বা কার্বন নিঃসরণ ঘটে না। ফলে কৃষি, মৎস্যসহ পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না। কুলিং টাওয়ার থেকে নির্গত জলীয় বাস্পও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রূপপুর প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পিএস

Link copied!