যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়ে একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার পরপরই পাল্টা জবাব দেয় তেহরান। ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের হতাহতের একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
ইরান: সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া হরমুজগান প্রদেশে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় ১৭৫ শিক্ষার্থী ও স্টাফ নিহত হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি করেছে। বিভিন্ন শহরে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
ইসরায়েল: ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণহানি
ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ মার্চ বেই সামশে শহরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে একদিনেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র: সেনা হতাহত
যুদ্ধের অন্যতম পক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ছয়জন সেনা নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আরও কয়েকজন সেনা আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।
লেবানন: হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল সংঘর্ষ
ইরানের পক্ষে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এর জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এতে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৭৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতেও প্রাণহানি
সংঘাতের বিস্তৃত প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও। কুয়েতে ৪ জন, আমিরাতে ৩ জন, বাহরাইনে ১ জন এবং ওমানে ১ জন। এছাড়া মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরাকের বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীর সদস্যরা নিহত হয়েছেন। সিরিয়ার দামেস্কের উপকণ্ঠে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে।
অস্থির ভবিষ্যৎ
পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। কূটনৈতিক সমাধানের কোনো ইঙ্গিত এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী সংঘাত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে উদ্বেগ।
এম
আপনার মতামত লিখুন :