ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। ফলে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিন স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ০.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১১৭.২৭ ডলারে দাঁড়ায়। আগের সেশনে এক শতাংশের বেশি পতনের পর এদিন দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। তবে সুদের হার কমার সম্ভাবনা কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে এ সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। এতে টানা চার সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী ধারা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১২৬.৭০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন ডলার কিছুটা দুর্বল হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে উঠেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার বক্তব্য বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যা স্বর্ণের দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে ইরান ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের ওপর একাধিক হামলা চালিয়েছে। এর আগে শনিবার শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়, যার জবাবে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের বাজার অস্থির থাকতে পারে। বর্তমানে প্রধান সমর্থন স্তর ৫ হাজার ০৪০ ডলার এবং প্রতিরোধ স্তর ৫ হাজার ২৮০ ডলার। প্রতিরোধ স্তর ভেঙে গেলে দাম ৫ হাজার ৪৪৮ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে অস্থির দামের কারণে ভারতে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে বিনিয়োগ চাহিদা বাড়ায় চীনে স্বর্ণের প্রিমিয়াম স্থিতিশীল রয়েছে।
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে সিলভারের দাম ২.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৪.১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনাম প্রায় ১.৪ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৫০.৭০ ডলারে পৌঁছেছে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৬২.৭২ ডলারে উঠেছে।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :