বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

  • আন্তন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

ফাইল ছবি

ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালী। এই অচলাবস্থা কাটানো না গেলে আগামী গ্রীষ্মেই বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে বলে যৌথভাবে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সম্প্রতি এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থা তিনটির প্রধানরা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মজুদ রেকর্ড গতিতে হ্রাস পাচ্ছে। উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে সাধারণত জ্বালানির চাহিদা থাকে সর্বোচ্চ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে চাহিদা শীর্ষে পৌঁছানোর আগেই তেলের বৈশ্বিক মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতি, বাজার পরিস্থিতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় থমকে গেছে জ্বালানি সরবরাহ। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই রুট বন্ধ থাকায় বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো, যারা উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

যুদ্ধের প্রভাবে শুধু জ্বালানি নয়, বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে কৃষি সারের দামও। বিভিন্ন দেশে এখন চাষাবাদের মূল মৌসুম শুরু হওয়ায় সারের এই মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই সংকটের কারণে অনুন্নত ও কম আয়ের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে, যা সরাসরি বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা আগেই আভাস দিয়েছিলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটের কারণে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমাতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি। বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হবে।

এই বৈশ্বিক মন্দার আঁচ এসে লেগেছে দক্ষিণ এশিয়াতেও। আইএমএফ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের জন্য আবেদন করেছে। বাংলাদেশের এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে দেশটিকে সহযোগিতা করতে একটি কার্যকর কর্মসূচি বা রূপরেখা তৈরির বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। এর আগে গত এপ্রিল মাসে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও আইইএ মিলে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছিল, যা মূলত সংকটে পড়া দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোকে রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

এসআই

Link copied!