ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ঢালছেন ধনকুবেরা। শীর্ষ ১৫ জন দাতা মিলে এ পর্যন্ত অন্তত ১৫০ কোটি ডলার (প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা) অনুদান দিয়েছেন, যা এ নির্বাচনকে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল নির্বাচনে পরিণত করেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির বিশ্লেষণে ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) নথির সূত্রে এ চিত্র উঠে এসেছে।
অনুদানের তালিকায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের ব্যবসায়ীদের, যারা সরকারের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার পক্ষে রাজনৈতিক চাপ তৈরিতে অর্থ ঢালছেন।
অনুদানের দিক দিয়ে তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন স্পেসএক্স ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের প্রধান ইলন মাস্ক। তিনি একাই দিয়েছেন ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি, যার মধ্যে ২৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারই দিয়েছেন গত ১ জুলাইয়ের পর। ২০১০ সালে মার্কিন নির্বাচনে অর্থ ব্যয়ের সীমা তুলে নেওয়ার পর থেকে কোনো একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ অনুদানের রেকর্ড। মাস্কের অর্থের বড় অংশই গেছে রিপাবলিকানপন্থী সুপার ‘আমেরিকা পিএসি’ এবং সিনেট লিডারশিপ ফান্ডে (এসএলএফ)।
পরামর্শক সংস্থা ‘ইস্যু ওয়ান’-এর পলিসি ডিরেক্টর মাইকেল বেকেল জানান, নিজের ব্যবসার ওপর থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমানোর জন্য নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রার্থীদের জয়ী করতেই প্রযুক্তি খাতের প্রধানেরা কোটি কোটি ডলার খরচ করছেন।
শীর্ষ দাতার তালিকায় ক্রিপ্টোকারেন্সি ও এআই খাতের ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট মার্ক আন্দ্রেসেন ও বেনজামিন হোরোভিৎস খরচ করেছেন ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান রিপল ল্যাবস ও সহপ্রতিষ্ঠাতা ক্রিস লারসেন দিয়েছেন ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি, আর কয়েনবেস দিয়েছে ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
পাশাপাশি, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে গোপন অনুদান প্রদানকারী অলাভজনক সংস্থা বা ‘ডার্ক মানি’ গ্রুপগুলো। শীর্ষ ১৫ দাতার তালিকায় ৪টি ডার্ক মানি গ্রুপ রয়েছে, যাদের আইনি কাঠামোর কারণে মূল দাতাদের নাম প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা নেই। রিপাবলিকানপন্থী ‘ওয়ান নেশন’ দিয়েছে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং ডেমোক্র্যাটপন্থী ‘মেজরিটি ফরওয়ার্ড’ দিয়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
এ ছাড়া মার্কিন রাজনীতির পুরোনো বড় দাতাদের মধ্যে ধনকুবের দম্পতি এলিজাবেথ ও রিচার্ড ইউলেইন রিপাবলিকানদের পক্ষে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে দীর্ঘদিনের অর্থদাতা জর্জ সরোস অন্তত ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার দিয়েছেন। নিউ ইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গও ইতোমধ্যেই ৫ কোটি২৬ লাখ ডলার খরচ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের অস্বাভাবিক বিনিয়োগ এবং ডার্ক মানির ব্যাপক ব্যবহার মার্কিন নির্বাচনের গতিপথ ও ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে সাধারণ ভোটারের চেয়ে অর্থশালীদের অবস্থানকে বহুগুণ শক্তিশালী করে তুলছে।
এসএইচ