এল নিনোর তাণ্ডব, ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে পৃথিবী!

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
এল নিনোর তাণ্ডব, ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে পৃথিবী!

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ আবহাওয়াগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে এল নিনো। জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ু সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করে জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যা এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে ইতোমধ্যেই এল নিনোর প্রভাব শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের আবহাওয়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এখন থেকেই দেশগুলোকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা, যার ফলে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বৈশ্বিক বৃষ্টিপাতের ধরন, বায়ুচাপ এবং বাতাসের প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এ ঘটনা দেখা দেয় এবং এর স্থায়িত্ব থাকে প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস।

ডব্লিউএমওর সর্বশেষ মৌসুমি পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের এল নিনো ‘শক্তিশালী’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা সংস্থার চার স্তরের মধ্যে তৃতীয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জলবায়ু কেন্দ্রের পূর্বাভাস বলছে, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেছেন, এল নিনো আরও শক্তিশালী হলে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে খরা, ভারী বৃষ্টিপাত এবং স্থল ও সমুদ্রে তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষি, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু-সংবেদনশীল বিভিন্ন খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে বিশ্বের অধিকাংশ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হলেও ভারতীয় উপমহাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কম বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ডব্লিউএমও আরও জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনোর সংখ্যা বা তীব্রতা বেড়েছে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। তবে উষ্ণতর সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডল চরম আবহাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও আর্দ্রতা বাড়িয়ে দেওয়ায় এল নিনোর প্রভাব আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগাম প্রস্তুতি, সঠিক পূর্বাভাস এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা না হলে এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বহু দেশকে বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। সূত্র: এএফপি।

পিএস

Link copied!