সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমের আবেগঘন পোস্ট

  • নিউজ ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমের আবেগঘন পোস্ট

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম রাজধানীর বেইলি রোডে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। দীর্ঘ সময় সেখানে বসবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জায়গাটিকে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শুক্রবার (৬ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে শফিকুল আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বেইলি রোডের ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’-এর পঞ্চম তলায় থাকতেন। নামের সঙ্গে ‘মিনিস্টার্স’ থাকলেও তখন সেখানে কোনো মন্ত্রী থাকতেন না; ভবনটিতে মূলত বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারাই বসবাস করতেন। শান্ত পরিবেশে পাখির কিচিরমিচিরে দিনের শুরু হতো বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, তার বাসা থেকে কয়েক কদম দূরেই ছিল ‘যমুনা’, যেখানে অবস্থান করতেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সরকারের প্রায় আঠারো মাসের কর্মকাণ্ডের বড় অংশই সেখান থেকে পরিচালিত হয়েছে। অনেক সময় রাতের খাবার ফেলে রেখেই তাকে দ্রুত যমুনায় ছুটে যেতে হয়েছে—সংকটময় পরিস্থিতি কাছ থেকে দেখার জন্য এবং সেই তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরতে।

শফিকুল আলম আরও জানান, তার বাসার কাছেই অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে তিনি প্রায় ৩০০টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। একই সঙ্গে সেখানে ঐকমত্য কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপেও অংশ নিয়েছেন। শান্ত পরিবেশের বেইলি রোড অনেক সময় উত্তাল বিক্ষোভেও মুখর হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে প্রতিবারই পরিস্থিতি বদলে গিয়ে এলাকাটি আবার স্বাভাবিক সৌন্দর্যে ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্ট্যাটাসে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এত ব্যস্ততার মধ্যেও গত তেরো মাসে রমনা পার্কে পর্যাপ্ত সময় কাটানো হয়নি। সকালবেলার হাঁটা বা আড্ডায় যোগ দেওয়ার সুযোগও পাননি। তবে তিনি ও তার স্ত্রী প্রায় প্রতিদিনই রাস্তার পাশে বসা অস্থায়ী বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেন। সম্প্রতি সেই ছোট দোকানগুলো সরিয়ে দেওয়ায় জায়গাটির পরিবেশও বদলে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টের শেষাংশে শফিকুল আলম লিখেছেন, “বিদায়, বেইলি রোড। বাইরে থেকে তুমি শান্ত মনে হলেও ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ের নীরব সাক্ষী হয়ে থাকবে।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির বাংলাদেশ ব্যুরোপ্রধান শফিকুল আলমকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এম

Link copied!