ফাইল ছবি
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের নৌপথ হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে বিশ্বজুড়ে চাহিদা কমানো ও বিকল্প পথ ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাজার বড় ধরনের সংকট এড়িয়ে চলেছে।
বিশ্ববাজারে প্রতি বছর তেলের বৈশ্বিক সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটলেও নানা কৌশল অবলম্বন করায় তেলের বাজার লাগামহীন হয়ে ওঠেনি। ভ্রমণ কমানো, বৈদ্যুতিক যানের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বিকল্প পাইপলাইন বা দেশ থেকে তেল সরবরাহের কারণে বৈশ্বিক চাহিদাও অনেকটাই কমে এসেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দেড় শ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও বর্তমানে তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিশ্ববাজারের এই বদলে যাওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতও। দেশে বাৎসরিক ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির একটা বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। সম্প্রতি সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনেছে। আগে দিনে সাড়ে চার হাজার টন জ্বালানি পণ্য উৎপাদিত হলেও বর্তমানে তা কমিয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টনে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের ক্রুড অয়েলের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে মালয়েশিয়া থেকে বিকল্প উপায়ে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আমদানি ও রিফাইনারির উৎপাদন কমলেও দেশে জ্বালানির বড় ধরনের কোনো ঘাটতি তৈরি হয়নি। বিপিসির কৌশলগত ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিকল্প উপায়ে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংগ্রহের জন্য বিকল্প উৎসের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। ফলে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দেশকে কোনো চিন্তায় পড়তে হবে না।
এসএইচ