ঈদের পর বিএনপির সব অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের আভাস

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
ঈদের পর বিএনপির সব অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের আভাস

ফাইল ছবি

দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, শীর্ষ নেতাদের সরকারি দায়িত্বে ব্যস্ততা এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্বের স্থবিরতায় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো কার্যত গতিহীন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঈদুল ফিতরের পর থেকেই দলটির ভেতরে পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে আভাস মিলেছে।

দলটির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টিরই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই নিয়ম মানা হয়নি। ফলে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

একই চিত্র মূল দলেও। সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছে ২০১৬ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও নতুন কাউন্সিল হয়নি। যদিও এই সময়ে নির্বাহী কমিটিতে কিছু পরিবর্তন এসেছে, তবু তা কাঙ্ক্ষিত গতি আনতে পারেনি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দলটি। সংসদ ও মন্ত্রিসভার দায়িত্বে যুক্ত হওয়ায় অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতারই সাংগঠনিক কাজে সময় কমে গেছে। এতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমে স্থবিরতা আরও প্রকট হয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, আপাতত সরকারের কার্যক্রম পরিচালনাই শীর্ষ নেতৃত্বের প্রধান অগ্রাধিকার। তাই চলতি বছর জাতীয় কাউন্সিলের সম্ভাবনা কম। তবে সংগঠনকে গতিশীল করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠনের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে শীর্ষ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে তৎপর হওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়েছে। দুর্বল কাঠামো নিয়ে নির্বাচনে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো সুবিধা নিতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

দীর্ঘদিন নতুন কমিটি না হওয়ায় অনেক কর্মী সংগঠন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। একই কমিটি বছরের পর বছর বহাল থাকায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলও বাড়ছে। এর মধ্যেই পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে, বাড়ছে লবিং ও তদবির।

সব মিলিয়ে, ঈদের পর বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে নতুন নেতৃত্ব আনার উদ্যোগ কতটা দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সংগঠনের স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে এই পুনর্গঠনই হতে পারে বড় পরীক্ষার মঞ্চ।

এসএইচ 
 

Link copied!