স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও তরুণদের নিয়ে জামায়াতের বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও তরুণদের নিয়ে জামায়াতের বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি, জনকল্যাণ, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে এক বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। সামিটে প্রস্তাবিত নীতিমালায় স্বাস্থ্যখাতকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ছয় থেকে আট শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়সী ও পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, ৬৪ জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন এবং ‘ফার্স্ট হান্ড্রেড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় প্রসূতি নারী ও মায়েদের বিনামূল্যে সেবা প্রদানের মতো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য মেধাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের ঋণ সুবিধা সম্প্রসারণ, বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ শিক্ষার্থীকে সরকারি প্রেরণ, ইডেন ও বদরুন্নেসা কলেজ একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং শিশুদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অর্থনীতি ও শিল্পখাতেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম তিন বছরের জন্য সব শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ মওকুফ, বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে পরিচালনা করা, পাশাপাশি শ্রমিকদের ১০ শতাংশ মালিকানা প্রদান করা পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ সুবিধা, পাঁচ লাখ গ্রাজুয়েটকে দুই বছর মেয়াদি মাসিক দশ হাজার টাকা ঋণ এবং প্রতিবছর তরুণদের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে বিস্তৃত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সাজানো হয়েছে।

তরুণদের জন্য নতুন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, বাজারভিত্তিক স্কিল প্রশিক্ষণ, প্রতিটি উপজেলায় ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’, জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’, ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা তৈরির প্রকল্পের মাধ্যমে পাঁচ বছরের মধ্যে কোটি কোটি যুবক ও যুবতীর জন্য কর্মসংস্থান এবং দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামও চালু করা হবে।

আইসিটি খাতেও ভিশন ২০৪০ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দুই মিলিয়ন আইসিটি জব সৃষ্টির লক্ষ্য, ফ্রিল্যান্স ও ডিজিটাল রপ্তানির জন্য ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন এবং আইসিটি খাতে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সরকারের ব্যয় সাশ্রয় করে শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর আনাই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মোটমাট, জামায়াতের এই পলিসি সামিটের প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, তরুণ কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও প্রযুক্তি খাতকে কেন্দ্র করে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো পরিবর্তনের দিক নির্দেশনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য প্রস্তাবিত নীতিমালার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরেছে, যেখানে নাগরিক সুবিধা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন সমন্বিত।

এসএইচ 
 

Link copied!