• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

পে স্কেল নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সরকারি চাকরিজীবীদের


নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
পে স্কেল নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সরকারি চাকরিজীবীদের

ফাইল ছবি

সচিবালয়ের বাইরে দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত জোট দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ জানিয়েছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে তারা নতুন সরকারের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসতে চায়। সংগঠনটির সঙ্গে শিক্ষকসহ প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী সম্পৃক্ত রয়েছেন।

পে স্কেল সংস্কারের দাবিতে সরকারি চাকরিজীবীরা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই আন্দোলন শুরু করেন। লাগাতার কর্মসূচির মুখে সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। বিষয়টি পর্যালোচনায় একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল, তবে চাকরিজীবীরা নির্বাচনের আগেই দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত চেয়েছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার তখন জানিয়েছিল, নির্বাচিত সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীরা আবারও সংগঠিত হয়ে দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা নতুন সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরতে চান।

শনিবার দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী গণমাধ্যমকে বলেন, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। তার ভাষায়, তাদের আশা নতুন সরকার কর্মচারীদের দাবির বিষয়ে ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে ওয়ারেছ আলীর নেতৃত্বে সংগঠনের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের দপ্তরে আবেদন পাঠানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সচিবালয়ের বাইরের সব দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে এই জোট গঠিত হয়েছে এবং এতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী যুক্ত রয়েছেন।

আবেদনে স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ, যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণ করে বলা হয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা রাষ্ট্রের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তারা ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ২০১৫ সালের পে স্কেলকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে সংগঠনটি জানায়, সে সময় থেকে তারা বৈষম্য নিরসনে নানা কর্মসূচি পালন করলেও পূর্ববর্তী সরকার তাদের দাবি আমলে নেয়নি। বরং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করা হয়। বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সেবা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি ও পারিবারিক ব্যয়ের চাপে বিশেষ করে ১১ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দাবিনামায় বৈষম্যহীন নবম পে স্কেল চালু করে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনঃস্থাপন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পেনশন চালু, গ্রাচ্যুইটির হার শতভাগ নির্ধারণ এবং পেনশন গ্রাচ্যুইটির মান বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি পদোন্নতি বা পাঁচ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড, অধস্তন আদালতের কর্মচারীদের বিচার বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি, টেকনিক্যাল কর্মীদের মর্যাদা নির্ধারণ এবং বেতন শেষ ধাপে পৌঁছালেও বার্ষিক বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় সব ভাতা পুনর্নির্ধারণ, রেশন ব্যবস্থা চালু, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর ও অবসরের বয়স ৬২ বছর নির্ধারণ, উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত কর্মচারীদের চাকরিকাল গণনায় বৈষম্যমূলক আদেশ বাতিলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব দাবি তুলে ধরতে দ্রুত সাক্ষাতের তারিখ নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়ে আবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষে সরাসরি আলোচনা হলে বিষয়গুলো বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে বলে তারা আশা করছেন।

এসএইচ 

 


 

Wordbridge School
Link copied!