• ঢাকা
  • শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

কী কারণে বিএনপিকর্মীকে প্রথমে থাপ্পড় দিয়েছিলেন সেই নারী শিক্ষক, জানা গেল আসল কারণ


জেলা প্রতিনিধি এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৮:২৫ এএম
কী কারণে বিএনপিকর্মীকে প্রথমে থাপ্পড় দিয়েছিলেন সেই নারী শিক্ষক, জানা গেল আসল কারণ

রাজশাহীর দুর্গাপুরে একটি সরকারি কলেজে পরীক্ষা চলাকালে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও নারী শিক্ষককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল), যখন ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থাতেই একদল ব্যক্তি কলেজে ঢুকে হামলা চালায়।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, দাউকান্দি সরকারি কলেজে স্নাতক পরীক্ষার সময় ১০–১২ জনের একটি দল হঠাৎ প্রবেশ করে অধ্যক্ষের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলে চাঁদা চাইছিল। অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক অর্থ দিতে অপারগতা জানালে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এ সময় উপস্থিত শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরা প্রতিবাদ জানালে হামলাকারীদের একজন তার উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করেন। উত্তেজিত পরিস্থিতিতে শিক্ষক তাকে চড় মারলে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় জুতা খুলে তাকে মারধর করে। পরে অন্যরাও এতে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ।

শিক্ষকরা জানান, হামলাকারীরা আলেয়া খাতুনকে কক্ষ থেকে টেনে বাইরে নিয়ে যায়, মারধর করে এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। গুরুতর আঘাতে তার দাঁত ভেঙে যায় এবং তিনি আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। একই সঙ্গে অধ্যক্ষকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন প্রকাশ্যে মারধরের কথা স্বীকার করেছেন, যদিও তিনি দাবি করেছেন যে তা তাৎক্ষণিক উত্তেজনা থেকেই ঘটেছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি এই হামলার সঙ্গে জড়িত। ঘটনার পর একটি পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট এক নেতাকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষক ও স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র কলেজটিতে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ দাবি করে আসছিল। সাম্প্রতিক এই হামলাকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখছেন তারা।

ঘটনাটি ঘটার সময় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও কীভাবে হামলাকারীরা এভাবে তাণ্ডব চালাতে পারল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

দুর্গাপুর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানানো হয়েছে।

এম

Link copied!