ঢাকা : উইম্বলডন পুরুষ এককের ফাইনালে আজ মুখোমুখি হবেন নোভাক জকোভিচ ও কার্লোস আলকারাজ। জকোভিচের সামনে রেকর্ডের হাতছানি। তো আলকারাজ ফাইনালে উঠেই বলেছেন, জকোভিচকে হারাতে পারবো। শীর্ষ বাছাই হিসেবে এবারের উইম্বলডন শুরু করেন আলকারাজ। জকোভিচ দ্বিতীয় বাছাই।
উইম্বলডনে টানা পাঁচ শিরোপা জয়, সব মিলিয়ে এই প্রতিযোগিতায় আট শিরোপা জিতে ফেদেরারের রেকর্ড স্পর্শের হাতছানি জকোভিচের সামনে। ২৩ গ্রান্ড স্ল্যাম জিতে পুরুষ এককে এগিয়ে জকোভিচই। এবার উইম্বলডন জিতলে জকোভিচের গ্র্যান্ড স্ল্যাম সংখ্যা হবে ২৪। তাতে মার্গারেট কোর্টকে ছুঁইবেন তিনি। টেনিস ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন মার্গারেট কোর্ট।
আলকারাজ ২০২২ সালে ইউএস ওপেন জেতেন। দ্বিতীয়বারের মতো উঠেছেন কোন গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে। এবার উইম্বলডনের সেমিফাইনালে হারান তৃতীয় বাছাই দানিল মেদভেদেভকে। ৬-৩, ৬-৩, ৬-৩ এ জেতেন আলকারাজ। ম্যাচটি জিততে সময় নেন এক ঘণ্টা ৫০ মিনিট। উইম্বলডনের সেমিফাইনালে স্নায়ুর চাপ থাকা খুবই স্বাভাবিক। তবে আলকারাজকে দেখে মনে হয়নি তার বয়স ২০। দেখে মনে হয়েছে উইম্বলডনের ঘাসের কোর্ট তার বহু দিনের চেনা।
২০০৬ সালে স্বদেশী রাফায়েল নাদালের পর সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে উইম্বলডনের ফাইনালে পা রাখলেন ২০ বছর বয়সী স্প্যানিশ। ফাইনালে উঠে আলকারাজ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি জকোভিচকে হারাতে পারব। সবাই জানেন তিনি কিংবদন্তী। সত্যিই ম্যাচটা কঠিন হতে যাচ্ছে। তুমুল লড়াই করব আমি। আমি জানি, এখানে তাকে হারানোর সামর্থ্য আমার আছে।' জকোভিচ উইম্বলডনে টানা ৩৪ ম্যাচ জিতেছেন। আগের চার টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন তিনি। তবে আত্মবিশ্বাসী আলকারাজ।আজ ক্যারিয়ারের রেকর্ড ৩৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল খেলবেন জকোভিচ। আলকারাজের দ্বিতীয় ফাইনাল। ভয়ের কিছু নেই বলেও জানান আলকারাজ। 'আমি লড়বো, আমার নিজের ওপর বিশ্বাস আছে। আমি জানি সে ২০১৩ সাল থেকে সেন্টার কোর্টে অপরাজিত। চ্যালেঞ্জিং হবে, আমি প্রস্তুত। ভয় পাওয়ার কোনও সময় নেই, ক্লান্তিরও অবকাশ নেই।’
ফাইনালের আগে ঘুরে ফিরে আসছে 'স্পাইগেট' কান্ড। জকোভিচের অনুশীলনের ভিডিও করেছিলেন আলকারাজের বাবা। সেটি স্বীকারও করেন আলকারাজ। তবে বলেন বাবা টেনিসের ভক্ত বলেই এমনটি করেছে। কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে আরোঙ্গি পার্কে জকোর অনুশীলন ভিডিও করেন আলকারাজ সিনিয়র। এ নিয়ে জকোভিচ অভিযোগ করেছিলেন, অনুশীলনে প্রত্যাশিত ব্যক্তিগত গোপনীয়তা তিনি পাননি।
আজ ফাইনালে জকোভিচের সঙ্গেই খেলবেন আলকারাজ। তবে কি জকোর অনুশীলনের ভিডিও কাজে লাগাবেন স্প্যানিশ এই তরুণ। অবশ্য আগেই আলকারাজ বলেন, ‘আমার মনে হয় না। জোকোভিচের খেলার বিভিন্ন ভিডিও আমার কাছে আছে। এতে লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই।'
উইম্বলডনের সেমিফাইনালে জকোভিচ ৬-৩, ৬-৪, ৭-৬ গেমে হারান জানিক সিনারকে। তৃতীয় সেট গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে। সেই ম্যাচের পর জকোভিচ জানিয়েছিলেন কিছুটা নার্ভাস ছিলেন তিনি। ফাইনালের আগে ২০ বছর বয়সী আলকারাজের প্রশংসাই করেছেন জকোভিচ। 'আমার মনে হয় খুব বেশি মানুষ ভাবেনি ঘাসের কোর্টে সে ভালো করবে। তবে সে দারুণ করছে। নিজের দিনে যে কোন প্রতিপক্ষের জন্য সে বড় চ্যালেঞ্জ। আমি (জয়ের জন্য) ক্ষুধার্ত, সেও ক্ষুধার্ত তরুণ। আশা করছি দারুণ ম্যাচ হবে।'
জকোভিচ ও আলকারাজ এর আগে দুবার মুখোমুখি হয়েছেন। সবশেষ ২০২৩ ফ্রেঞ্চ ওপেন সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন জকোভিচ ও আলকারাজ। সেই ম্যাচে জকোভিচ ৬-৩, ৫-৭, ৬-১, ৬-১ গেমে জিতেছিলেন জকোভিচ। অবশ্য ম্যাচ চলাকালে পায়ের ইনজুরিতে পরেছিলেন ২০ বছরের আলকারাজ। এরপর শেষ দুই সেটে আর পেরে ওঠেননি জকোভিচের সঙ্গে।
তার আগে ২০২২ সালের মাদ্রিদ ওপেন সেমিফাইনালে জকোভিচকে হারিয়েছিলেন আলকারাজ। সেই ম্যাচটি আলকারাজ জিতেছিলেন ৬-৭, ৭-৫, ৭-৬ গেমে।
উইম্বলডন জকোভিচ জিতলে উঠে যাবেন র্যাংকিংয়ের শীর্ষে। আলকারাজ জিতলে তিনিই শীর্ষে থাকবেন।
সোনালীনিউজ/এমটিআই

























-20260722160634.jpg)







-20260725114857.jpg)




