ছবি: প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সদস্যের বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অবস্থান নিয়েছেন আসমা আক্তার (২০) নামে এক তরুণী। তিনি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ফতেপুর গ্রামের বিল্লাল খানের মেয়ে। অভিযুক্ত সেনাসদস্য জাহাঙ্গীর আলম (২২) ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন জাহাঙ্গীর আলম। চাকরিরত অবস্থায় মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে আসমার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একাধিকবার দেখা-সাক্ষাতের পর তাঁরা গোপনে বিয়ে করেন বলে দাবি আসমার।
পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আসমা স্বামীর স্বীকৃতি দিয়ে ঘরে তোলার দাবি জানান। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় জাহাঙ্গীর তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
নিরুপায় হয়ে আসমা কৌশলে স্বামীর গ্রামের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভূরুঙ্গামারীতে আসেন। প্রথমে তাঁকে বাড়িতে থাকতে দেওয়া হলেও তিন দিন পর জাহাঙ্গীরের খালাসহ পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
চিকিৎসা শেষে গত ৩ মার্চ তিনি ভূরুঙ্গামারী থানায় নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরের বাবা শাহ আলী ও মা জাহানারা বেগমকে আটক করে। বুধবার দুপুরে তাঁদের কুড়িগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আসমা বলেন, পরিবারের সঙ্গে সব সম্পর্ক ত্যাগ করে স্বামীর স্বীকৃতির আশায় তিনি তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন। প্রথমে তাঁকে মেনে নেওয়া হলেও তিন দিন পর নির্যাতন করে বের করে দেওয়া হয়। তাঁর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, আংটি ও পায়ের নূপুর খুলে নেওয়া হয় এবং মোবাইলে থাকা ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা হয়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন বলেন, আটক দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত সেনাসদস্য কর্মরত থাকায় তাঁকে আটক করা যায়নি। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :