ছবি : প্রতিনিধি
রংপুর: রংপুরের বাজারে মুরগি,ভোজ্যতেল,চিনি, এলপিজি,সবজিসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাধ্য হয়ে অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনছেন,আবার কেউ কেউ তুলনামূলক কম দামি পণ্যে ঝুঁকছেন। বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। দাম বেড়েছে ডিম ও মুরগিরও। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজি দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। অপরদিকে মাছ,মাংস,ডিমসহ বেড়েছে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম। রংপুরে সক্রিয় অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে ক্রমেই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে নিত্য ব্যবহারযোগ্য ও ভোগ্যপণ্যের বাজার।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রংপুর নগরীর সিটি বাজার,পৌর বাজার, লালবাগ বাজার,পাওটানা হাট,পীরগাছা, কাউনিয়া,শঠিবাড়ি,পালিচড়াসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে,আলুর দাম কম থাকলেও অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে প্রোটিনের প্রধান উৎস মুরগির। দেশি মুরগি ৬২০ টাকা, সোনালি ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে ছিল ২৭০ থেকে ৩২০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায়। এর প্রভাব পড়েছে গরুর মাংসের বাজারেও। ৭৫০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না। খাসির মাংস ১১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ মাছ ১৮০০ টাকা থেকে ২৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটল কেজি প্রতি ৮০ টাকা, করলা-১০০ টাকা, বেগুন-৮০ টাকা, লাউ-৭০-৮০ টাকা, সাজনা-৮০-১০০ টাকা,ভেন্ডি-৮০ টাকা, লতি-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন,আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা,সরবরাহ অনিশ্চয়তা ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার প্রভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশে জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ায় পণ্যের সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে মুরগি,সবজি, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। চাপে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ।
বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকটে বোতলজাত ও খোলা তেল বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা এবং পাম অয়েল ১৮৪ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও এসব তেলের দাম ছিল যথাক্রমে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা ও ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের গায়ের দর ১৯৫ টাকা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।
চিনির বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। ঈদের আগে প্রতি কেজি ৯৫ থেকে ১০০ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মর্ডান থেকে সিটি বাজারে আমিনুল নামে এক ব্যক্তি বলেন, বৃষ্টি হলেই সবজি নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণেই একটু দাম বৃদ্ধি। সব সময় তো আর বৃষ্টি হয় না। একটা অজুহাত পেলেই ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ব্যবসা করে। এতে করে বাজার করতে এসে আমাদের পড়তে হয় বিপাকে।
কামাল কাছনা থেকে পৌর বাজারে বকুল মিয়া বলেন, দ্রব্যমূল্যের দাম বেশি। যে পরিমাণে বাজার করার কথা। দাম বেশি হওয়ায় সেই পরিমাণে বাজার করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে দ্রব্যমূল্যের দাম কমিয়ে দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হোক। অপরদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, একটু বৃষ্টির কারণেই বাজারে সবজি সরবরাহ কমে গেছে। বাড়তি চাহিদা আর সরবরাহ ঘাটতির কারণেই দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরায় বেশি দামে বিক্রির করতে হয়।
রংপুর সিটি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং আমদানি ব্যাহত হওয়ায় আমদানিকারকদের ব্যয় বেড়েছে বলে কোম্পানিগুলো আমাদের জানিয়েছে। জ্বালানি তেলের সংকটে পরিবহন ভাড়াও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ভোজ্যতেলের বাজারে।
তিনি আরও বলেন,বাজারে অস্বাভাবিকহারে ভোজ্যতেলের দাম ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। বিশ্ববাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম গত এক মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যার প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়ছে।’
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রান্নার গ্যাসে। এপ্রিলে ১২ কেজি এলপিজির দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৭২৮ টাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ। যদিও বাজারে এই দরে ভোক্তারা কিনতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্রেতারা বলছেন, বিক্রেতারা এখন বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার দুই হাজার টাকার নিচে বিক্রি করছেন না। বাড়তি দর তাঁদের সংসারে চাপ তৈরি করেছে।
সবজির বাজারেও উত্তাপ। রংপুর নগরীর খুচরা বাজারগুলোতে সবজির দাম বেড়েই চলেছে। আগের তুলনায় এখন প্রায় সব সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এতে বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ।
বিক্রেতারা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, বৃষ্টি ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে সবজির দাম বেড়েছে। এ ছাড়া সবজির মৌসুমও শেষ পর্যায়ে। এ কারণেও দাম বাড়তি বলে জানান তাঁরা।
রংপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন,নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বাজারে চাহিদা অনুযায়ী তেলসহ সকল পণ্য মজুদ আছে। কোন অসাধু ব্যবসায়ী বাজার সিন্ডিকেট করে ব্যবসা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পিএস







































