• ঢাকা
  • শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

১ কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ বেতার, ঝুঁকিতে উপকূল


তারিকুল ইসলাম তুহিন, বরিশাল ব্যুরো এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
১ কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ বেতার, ঝুঁকিতে উপকূল

ছবি: প্রতিনিধি

ভোরের আলো ফুটতেই একসময় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ রেডিওর দিকে কান পেতে থাকতেন। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা নদীর পানি বৃদ্ধির আগাম বার্তা পেতে বেতারই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় ভরসা। কিন্তু এখন সেই বেতার যেন কার্যত অচল। শব্দ আছে, কিন্তু পৌঁছায় না; তরঙ্গ আছে, কিন্তু ছড়িয়ে পড়ে না।

দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কেন্দ্র বাংলাদেশ বেতার বরিশালের এফএম সিগন্যাল এখন মাত্র ১ কিলোমিটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মিডিয়াম ওয়েভ সিগন্যালও ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটারের বেশি পৌঁছাতে পারছে না। ফলে অধিকাংশ শ্রোতার কাছেই পৌঁছাচ্ছে না জরুরি তথ্য ও অনুষ্ঠান।

বর্তমানে কেন্দ্রটি থেকে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার মিডিয়াম ওয়েভ এবং ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এফএম ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে প্রতিদিন দুই অধিবেশনে ১৪ ঘণ্টা ১৫ মিনিট অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। তবে বাস্তবে বরিশাল মহানগরীর অনেক এলাকাতেই পরিষ্কারভাবে এফএম সম্প্রচার শোনা যাচ্ছে না।

এই বেতার কেন্দ্রটির মূল উদ্দেশ্য ছিল উপকূলীয় মানুষকে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্লাবনসহ বিভিন্ন দুর্যোগ সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে কেন্দ্রটি। এতে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় কেন্দ্রটি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ১৯৯৬ সালের ৩০ জুন সম্প্রচার শুরু হয় এবং ১৯৯৯ সালের ১২ জুন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। শুরু থেকেই ট্রান্সমিটারের সক্ষমতা সীমিত ছিল, আর নিয়মিত আধুনিকায়নের অভাবে তা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। গত সপ্তাহে টানা তিন দিন এফএম ট্রান্সমিটার বন্ধ থাকার পর সেটি চালু করা গেলেও এখন কার্যত ১ থেকে ২ কিলোওয়াট ক্ষমতায় চলছে। ফলে সিগন্যাল কাভারেজ মারাত্মকভাবে কমে গেছে।

স্থানীয় সুধীজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অবহেলা, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং আধুনিক প্রযুক্তির ঘাটতিই এ অবস্থার জন্য দায়ী। তারা কেন্দ্রটির জরুরি ভিত্তিতে আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয়রা মিডিয়াম ওয়েভে ১০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ট্রান্সমিটার স্থাপনের প্রস্তাব দেন। মন্ত্রী স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেন এবং উপকূলীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, বাংলাদেশ বেতার বরিশাল শুধু একটি সম্প্রচার কেন্দ্র নয়, এটি দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় মানুষের জীবনরক্ষাকারী মাধ্যম। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে উপকূলের অসহায় মানুষের ওপর।

কেন্দ্রটির পরিচালক কিশোর রঞ্জন মল্লিক জানান, পুরোনো ট্রান্সমিটারের কারণে সমস্যা হচ্ছে। তবে চলতি বছরের মধ্যেই নতুন ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এফএম ট্রান্সমিটার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
 

এসএইচ 

Link copied!