• ঢাকা
  • বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

তীব্র লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহক, নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপারকে চিঠি দিলো পল্লী বিদ্যুৎ


জেলা প্রতিনিধি আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম
তীব্র লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহক, নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপারকে চিঠি দিলো পল্লী বিদ্যুৎ

গোপালগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে। তাই ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রে হামলা চালাতে পারেন এমন আশঙ্কায় নিজেদের স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ওজোপাডিকো)।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওজোপাডিকোর গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে দপ্তর ও বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি নিয়মিত পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় ওজোপাডিকোর পাওয়ার হাউস, গোপালগঞ্জ দপ্তর ক্যাম্পাস এবং চরপাথালিয়ায় অবস্থিত দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে গোপালগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে এবং স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় অসন্তুষ্ট ব্যক্তি বা জনসাধারণ ওজোপাডিকোর দপ্তর, বৈদ্যুতিক স্থাপনা কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে পারেন। এমনকি কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা বা নাশকতার আশঙ্কাও রয়েছে।

এ কারণে ওজোপাডিকোর সব স্থাপনা ও ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত পুলিশি টহলের আওতায় আনা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারির অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, দিনে বিদ্যুতের চাহিদা ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে আমরা প্রায় ৯ মেগাওয়াট বরাদ্দ পাচ্ছি। রাতে চাহিদা বেড়ে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট হয়। তখন সরবরাহ পাওয়া যায় ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট। এই কারণে লোডশেডিং দিতে হয়।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলায় এবং হাসপাতালের রোগীদের কথা বিবেচনা করে সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে ঘাটতি সামাল দিতে কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

নেত্রকোনায় নিরাপত্তা চেয়ে ডিসিকে চিঠি দিলো পল্লী বিদ্যুৎ

এদিকে, নেত্রকোনায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে দিন-রাত মিলিয়ে ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে এই ভয়াবহ সংকটের কারণে স্থানীয় গ্রাহকদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও হামলার আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘লোডশেডিং কমিয়ে আনতে বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। সেইসঙ্গে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশকে জানানো হয়েছে।’

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট রাত ১টায় ১১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৫৫ মেগাওয়াট। ৮ আগস্ট বিকাল ৫টায় ১২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ৬৩ মেগাওয়াট। আর ৯ আগস্ট রাত ১১টায় ১২৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬০ মেগাওয়াট।

চিঠিতে বলা হয়, ১১ কেভি ফিডার দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর বিদ্যুৎ চালু হলে ফ্রিজ, পানির পাম্প, আইপিএসসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম একসঙ্গে চালু হয়। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চাহিদা প্রায় দেড় গুণ বেড়ে যায়। ফলে গ্রাহকপর্যায়ে লোডশেডিং ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন না করার কথা উল্লেখ করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এর মধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমীতে অবস্থিত বিআর পাওয়ারজেনের ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, আশুগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট এবং আরপিসিএল ময়মনসিংহ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথা বলা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, অতিমাত্রায় লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। মোবাইল ফোনে কর্মকর্তাদের গালিগালাজের পাশাপাশি অফিস ঘেরাও ও ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বকেয়া আদায়ে অভিযান পরিচালনার সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অতর্কিত হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটছে।

এম

Link copied!