ছবি : প্রতিনিধি
নাটোর: সৌদি আরব থেকে মোবাইল ফোনে বাবা-মাকে কথা দিয়েছিলেন আগামী ঈদের আগে বাড়ি ফিরবেন। কথা ছিল দেশে বিয়ে করারও। সেই কথা রাখতে পারেননি রবিউল ইসলাম। তিনি বাড়ি এলেন ঠিকই, তবে প্রাণহীন নিথর দেহ হয়ে। বৃহস্পতিবার রাতে যখন রবিউলের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায় তখন শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো গ্রাম। কান্নায় ভেঙে পড়েন পিতা-মাতা, স্বজনরা। ভারী হয়ে উঠে আশপাশের বাতাস।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে গ্রামের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের মহিষডাঙ্গা ভাটোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে রবিউলকে দাফন করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে।
সৌদি আরবের একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে যে ১৬ জন নিহত হয়েছেন তাদেরই একজন রবিউল। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নিহত ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর বিকাল ৪টার দিকে সেই ৯ জনের মরদেহ দেশে পৌঁছায়। তাদের মধ্যে রবিউলের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায়। সাত জন নওগাঁর আত্রাই এবং একজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা।
শুক্রবার সকালে রবিউলের মরদেহ বাড়ির বাড়ান্দায় রাখা ছিল। আত্মীয়-স্বজন আর গ্রামের মানুষের ঢল নামে ওই বাড়িতে। রবিউলের বাবা ডুকরে কাঁদছিলেন। তাকে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন স্বজনরা। ঘরের বিছানায় শুয়ে ছেলের স্মৃতি হাতরে বিলাপ করে কাঁদছিলেন মা। মাঝে মাঝে মূর্ছা যাচ্ছিলেন।
রবিউলের বাবা আশরাফুল ইসলাম বলেন, শেষ পর্যন্ত ছেলের লাশ পেয়েছেন এটিই তার কাছে বড় শান্তনা। অন্তত কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছেলের জন্য দোয়া করতে পারবেন।
তিনি জানান, ধার-দেনা করে সন্তানকে সৌদি পাঠিয়ে ছিলেন। বেশকিছু দিন অবৈধ থাকার পর কিছু দিন হলো বৈধ কাগজপত্র তৈরি হয়। উপার্জনের টাকায় কিছু ঋণও পরিশোধ করা হয়েছে। সব ঠিকই ছিল। সুদিন ফেরায় বাড়ির কাজ শুরু করা হয়েছিল। ঘর বাড়ির কাজ শেষ হলে ছেলের ঈদের আগে ফেরার কথা ছিল। কথা ছিল বিয়ে করে ঘরে বউ আনার। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেলো। এখন তিনি কী নিয়ে বাঁচবেন।
রবিউল ও তার ভাই একই কারখানায় কাজ করতেন। সৌভাগ্যক্রমে তার ভাই বেঁচে গেছেন। প্রায় দুই বছর আগে সৌদি আরবে যান রবিউল। আগামী ঈদে তার দেশে ফেরার কথা ছিল।
এদিকে সৌদির ওই অগ্নিকাণ্ডে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিন জন প্রবাসীর মৃত্যু হয়। তবে প্রথম পর্যায়ে রবিউলের মরদেহ এসেছে।
খাজুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম ভূট্টু বলেন, রবিউল শান্ত প্রকৃতির ছেলে ছিলেন। গ্রামের মানুষ রবিউলকে ভালোবাসতেন। কিন্তু মৃত্যুর খবর মানুষকে ব্যথিত করেছে। মরদেহ গ্রামে আসার সঙ্গে সঙ্গে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কান্নার রোল পড়ে এলাকায়। এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া তাদের সবার জন্য খুবই কষ্টের।
নলডাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি মো. শামীম হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই রবিউলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। শুক্রবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। সৌদি আরবে নিহত নলডাঙ্গার আরও দুজনের মরদেহ শনাক্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
পিএস























original1787417799-20260822173831.jpg)















