ছবি : প্রতিনিধি
সাভার: দলীয় রাজনীতিতে বহিষ্কারাদেশ নিয়েই যখন প্রশ্ন, তখন সেই নেতার স্বাক্ষরে বিএনপির আরেক নেতাকে পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনায় আশুলিয়ায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. জাকির হোসেন মুন্সীকে অব্যাহতির ঘটনায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে পরিচিত আলহাজ মোখলেছুর রহমান খান ইলিয়াস শাহী। অথচ দলীয় একটি বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৬ মার্চ তাকেই বিএনপি থেকে বহিষ্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে।
তবে নিজের বহিষ্কারের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন ইলিয়াস শাহী। তার দাবি, তিনি এখনো বিএনপিতে বহাল রয়েছেন এবং দলের স্বার্থেই জাকির হোসেন মুন্সীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আবদুল গফুর মিয়ার দাবি, ইলিয়াস শাহী বহিষ্কৃত নেতা। ফলে তার দেওয়া কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই।
যে বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বিতর্ক
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত অব্যাহতির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, পাইকারি বাজার, আড়ৎ ও পরিবহন, ফুটপাতে চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে জাকির হোসেন মুন্সীকে এর আগে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সতর্ক করার পরও এসব কর্মকাণ্ড থেকে তিনি বিরত হননি বলে অভিযোগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তার বিরুদ্ধে দলীয় আদর্শ, শৃঙ্খলা ও নীতিবোধ পরিপন্থি কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে দাবি করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জাকির হোসেন মুন্সীকে ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।
মাদ্রাসা হামলার মামলার পরই অব্যাহতি
সম্প্রতি আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় একটি মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় করা মামলায় জাকির হোসেন মুন্সীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া অতীতেও বিভিন্ন ঘটনায় তার নাম আলোচনায় এসেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন জাকির হোসেন মুন্সী।
তিনি বলেন, যিনি নিজেই দল থেকে বহিষ্কৃত, তিনি কীভাবে আরেকজনকে পদ থেকে অব্যাহতি দেন? উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি পক্ষ মনগড়া নোটিশ তৈরি করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
২৬ মার্চের বহিষ্কারাদেশের নথি
এদিকে প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, আলহাজ মোখলেছুর রহমান খান ইলিয়াস শাহীকে চলতি বছরের ২৬ মার্চ বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দলের নীতি-আদর্শ পরিপন্থি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বহিষ্কারের কথা বলা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আশুলিয়া থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. রাজীব খানের স্বাক্ষর রয়েছে।
তবে এ বহিষ্কারাদেশকে ‘মিথ্যা ও অসত্য’ দাবি করে ইলিয়াস শাহী বলেন, আমি বহাল তবিয়তে পদে আছি। আমাকে বহিষ্কারের বিষয়টি সঠিক নয়। দলের স্বার্থ রক্ষায় জাকিরের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‘বহিষ্কৃত নেতার নোটিশের কোনো মূল্য নেই’
অন্যদিকে, আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আবদুল গফুর মিয়া বলেন, ইলিয়াস শাহী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যক্তি। বহিষ্কৃত নেতা দলের কাউকে অব্যাহতি দেওয়ার কোনো সাংগঠনিক ক্ষমতা বা এখতিয়ার রাখেন না। তার দেওয়া অব্যাহতির নোটিশ সম্পূর্ণ মূল্যহীন। এটি কার্যকর হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে একই বিষয়ে দুই পক্ষের দুই ধরনের সাংগঠনিক দাবি এবং পরস্পরবিরোধী নথি প্রকাশ্যে আসায় আশুলিয়া বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কে বৈধভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন এবং কার স্বাক্ষরে দেওয়া সিদ্ধান্ত দলীয়ভাবে কার্যকর তা নিয়েই এখন চলছে নানা আলোচনা।
পিএস







































