ফাইল ছবি
পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নে এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আবু ইউসুফ প্রামাণিক নামের এক মাদরাসাশিক্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগ, এর আগেও তাকে একাধিকবার চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ানো হতো।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট মাদরাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার দড়িভাউডাঙ্গা এলাকায় পদ্মা হাসপাতালের পাশে অবস্থিত একটি নুরানী মহিলা মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আবু ইউসুফ সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি ওই মহিলা মাদরাসার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১৫০ জন ছাত্রী পড়াশোনা করে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের আজানের আগে এক ছাত্রী শৌচাগারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কক্ষ থেকে বের হলে শিক্ষক আবু ইউসুফ তাকে জোরপূর্বক অন্য একটি কক্ষে নিয়ে যান এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ছাত্রীর ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে ধরে ফেলে পুলিশে খবর দেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রী জানায়, ইতোপূর্বেও তাকে চেতনানাশক খাইয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ঘটনা আড়াল করতে তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খেতে বাধ্য করা হতো। প্রতিষ্ঠানের আরও কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে সে। ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো বলেও জানায় ভুক্তভোগী।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতে নিজ স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগও এনেছেন তার স্ত্রীর স্বজনেরা। তাদের দাবি, পরকীয়ার জের ধরে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হয়নি।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
পাবনার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ জানান, আনীত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে মাদরাসায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাটিও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
এসএইচ







































