ছবি : সোনালীনিউজ
ঢাকা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অযৌক্তিক ও অনৈতিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন চাকরিচ্যুতরা। রোববার (২ আগস্ট) মতিঝিল ডিএসইর পুরোনো ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা জানান, শ্রম আইন ও বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই বা টার্মিনেট করার নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী কাউকে চাকরিচ্যুত করতে হলে কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show Cause Notice) এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা, নোটিশ বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া হুট করে কর্মী ছাঁটাই সম্পূর্ণ বেআইনি ও অন্যায়।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কয়েকটি দাবি তুলেন ধরেন-
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত
যদি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় খরচ কমানোর (Cost Cutting) প্রয়োজনই হতো, তবে তার একটি স্বচ্ছ নীতিমালা থাকা উচিত ছিল। তা না করে বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু কর্মীকে টার্মিনেট করা দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়—এই সিদ্ধান্তটি স্বচ্ছ নয়, বরং সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ব্যক্তিস্বার্থ নির্ভর ও পক্ষপাতমূলক।
কর্মচারীদের মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি- হঠাৎ চাকরি হারানোর ফলে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মারাত্মক মানসিক ও পারিবারিক সংকটে পড়েছেন। বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এভাবে চাকরিচ্যুত করা তাদের পরিবারকে এক অনিশ্চিত ও ধ্বংসাত্মক ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
পুঁজিবাজার ও ডিএসই-র ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ দেশের প্রধান পুঁজিবাজার এবং জাতীয় অর্থনীতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এই ধরনের একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা এবং অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত সাধারণ বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা পাঠায়, যা ক্যাপিটাল মার্কেটের সামগ্রিক ভাবমূর্তি বিনষ্ট করছে।
অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও কর্মপরিবেশ বিনষ্ট - এই বেআইনি ছাঁটাইয়ের ফলে বর্তমানে কর্মরত অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও তীব্র আতঙ্ক ও চাকরি হারানোর ভয় তৈরি হয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানে চাকরির কোনো স্থায়িত্ব বা নিরাপত্তা নেই, সেখানে কর্মীরা কাজের উৎসাহ হারিয়ে ফেলে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ডিএসই-র সার্বিক কর্মদক্ষতা ও পুঁজিবাজারের সেবার ওপর।
বিকল্প ব্যবস্থার সুযোগ না দেওয়া-
প্রশাসন চাইলে খরচের অন্যান্য খাত পরিমার্জন করতে পারত, কিংবা কোনো পুনর্গঠন পরিকল্পনা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে করতে পারত। কিন্তু কর্মীদের সাথে কোনো প্রকার ইতিবাচক আলোচনা না করে, কোনো সুযোগ না দিয়ে একপাক্ষিক ও একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্তের প্রয়োগ ঘটিয়েছে, যা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
যৌক্তিক ও আইনানুগ ক্ষতিপূরণের অভাব কাউকে যদি বাধ্য হয়ে বাদ দিতেও হয়, তবে তার জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ, গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড সহ যাবতীয় পাওনা দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে। কোনো ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি বা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ছাড়া তাৎক্ষণিক ছাঁটাই মূলত কর্মচারীদের রাস্তায় বসিয়ে দেওয়ার একটি চক্রান্ত।
আমাদের মূল দাবি খুব স্পষ্ট—এই অবৈধ ও অনৈতিক ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সসম্মানে স্বপদে পুনর্বহাল করতে হবে। পাশাপাশি একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
এসআই






































