• ঢাকা
  • রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

৫৬৫ কোটি টাকার বেশি আর্থিক অনিয়ম প্রাইম ইসলামী লাইফে


আবদুল হাকিম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
৫৬৫ কোটি টাকার বেশি আর্থিক অনিয়ম প্রাইম ইসলামী লাইফে

ফাইল ছবি

ঢাকা: জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ৫৬৫ কোটি টাকার বেশি আর্থিক অনিয়ম, বিধি লঙ্ঘন ও অনিশ্চিত বিনিয়োগের তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা করে এসব তথ্য জানিয়েছেন কোম্পানিটির নিরীক্ষকেরা।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির ২১১ কোটি টাকার বেশি অনাদায়ী খাতে আটকে আছে। সরকারি সিকিউরিটিজে বাধ্যতামূলক বিনিয়োগের ঘাটতি রয়েছে ২০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। পাশাপাশি আইডিআরএর নির্ধারিত ‘অন্যান্য অনুমোদিত বিনিয়োগের’ সীমা ছাড়িয়েছে ১৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

২০১৮ সাল থেকে অনাদায়ী ১৮৮ কোটি টাকা-

নিরীক্ষকেরা জানিয়েছেন, কোম্পানিটির স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগের মধ্যে পিএফআই সিকিউরিটিজে রয়েছে ১৬৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ ছাড়া অনাদায়ী মুনাফা, লভ্যাংশ ও ভাড়া বাবদ রয়েছে ৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। পিএফআই সিকিউরিটিজে আরও ১০ কোটি ৫২ লাখ টাকা রয়েছে। সব মিলিয়ে কোম্পানিটির কাছে পাওনা রয়েছে ১৮৮ কোটি ১১ লাখ টাকা। এসব অর্থের বড় একটি অংশ ২০১৮ সাল থেকে অনাদায়ী রয়েছে।

সরকারি সিকিউরিটিজে বড় ঘাটতি-

বীমা বিধিমালা অনুযায়ী, কোম্পানির সম্পদের অন্তত ৩০ শতাংশ সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে প্রাইম ইসলামী লাইফের সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ রয়েছে মাত্র ২৭ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭৮২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে সরকারি সিকিউরিটিজে অন্তত ২৩৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ থাকার কথা। ফলে এ খাতে ঘাটতি রয়েছে ২০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, জিরো কুপন বন্ড, পিএফআইর স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ ও স্টার্লিং গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগসহ ‘অন্যান্য অনুমোদিত বিনিয়োগের’ পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮৭ কোটি ৮০ লাখ ৪৪ হাজার ৯০৭ টাকা।

আইডিআরএর বিধিমালা অনুযায়ী, এ খাতে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রাইম ইসলামী লাইফের বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বেশি।

বন্ডের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা-

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বাংলালায়নের ১০ শতাংশ কনভার্টেবল জিরো কুপন বন্ডে প্রায় ৪ কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এর বিপরীতে জমা মুনাফা রয়েছে ৩ কোটি ৬ লাখ টাকা।বন্ডটির মেয়াদ ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে শেষ হয়ে গেলেও এখনো অর্থ আদায় হয়নি। ফলে এই বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষকেরা।

এ ছাড়া স্টার্লিং গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানে কোম্পানিটির প্রায় ১৫ কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগও ২০১৮ সাল থেকে অনাদায়ী। এসব অর্থ আদায়ের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চারটি দেওয়ানি আবেদন চলমান রয়েছে।

হয়নি অ্যাকচুয়ারিয়াল মূল্যায়ন-

প্রাইম ইসলামী লাইফের জীবন বীমা দায়ের অ্যাকচুয়ারিয়াল তদন্ত ও মূল্যায়নও করা হয়নি বলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৯ মে জারি করা এসআরও ১৬১-আইন/২০১৮-এর ৩০(১) ধারা অনুযায়ী, এ ধরনের মূল্যায়ন করা বাধ্যতামূলক।
এ ছাড়া সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্য ১৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা লভ্যাংশও ২০১৮ সাল থেকে অনাদায়ী রয়েছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে কোম্পানিটির আনরিয়েলাইজড লোকসান হয়েছে ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

মালিকানা কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন-

কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৩০ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে স্পন্সর ও পরিচালকদের মালিকানা ৩৬ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৬৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। নিরীক্ষকেরা বলেছেন, এই মালিকানা কাঠামো আইডিআরএর নির্ধারিত অনুপাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এএইচ/পিএস

Link copied!