• ঢাকা
  • রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে পাঙাশ-তেলাপিয়া, আমিষের জোগান নিয়ে শঙ্কা


নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে পাঙাশ-তেলাপিয়া, আমিষের জোগান নিয়ে শঙ্কা

ফাইল ছবি

ঢাকা: বাজারে থলে হাতে দাঁড়ানো মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে মাছ মানেই ছিল পাঙাশ আর তেলাপিয়া। যে দুটি মাছ কিনে একসময় কোনোমতে প্রোটিনের ক্ষুধা মেটানো যেত, সেই ‘গরিবের মাছ’ও এখন রাজকীয় রূপ নিয়েছে। রুই-কাতলা আগেই স্বপ্ন হয়ে গিয়েছিল, এবার শেষ আশ্রয় এই দুই চাষের মাছও আড়াইশ টাকার ঘরে গিয়ে ঠেকায় সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের খাবার পাতে মাছের অংশটুকু শুধুই কমছে।

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে প্রতি কেজি পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকায়। তবে দুই থেকে তিন কেজি ওজনের পাঙাশের দর কেজিপ্রতি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং তার চেয়ে বড় আকারের ক্ষেত্রে দাম আরও বেশি। কয়েক বছর আগেও ছোট ও মাঝারি সাইজের পাঙাশ মিলত ১২০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে।

অন্যদিকে তেলাপিয়ার বাজার আরও বেশি চড়া। মাঝারি আকারের তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২২০ টাকায় এবং এক কেজির বেশি ওজনের বড় তেলাপিয়ার দাম পড়ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা। ২০২২ সালেও যে তেলাপিয়া প্রতি কেজি ১৪০ টাকা থেকে শুরু হতো, সে তুলনায় বর্তমান দর বেড়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত। মূলত মাঝারি আকারের তেলাপিয়ার দরও এখন বড় পাঙাশের সমপর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

দেশে মোট উৎপাদিত মিঠাপানির মাছের বড় অংশই আসে কৃত্রিম চাষাবাদ থেকে। ময়মনসিংহ, যশোর, বগুড়া, রাজশাহী ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলা এ খাতে শীর্ষে। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক পুকুরগুলোতে প্রধানত আটটি প্রজাতির মাছ চাষ হয়—পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, সিলভার কার্প, মৃগেল, কমন কার্প ও কই। এর মধ্যে উৎপাদনে সবার ওপরে রয়েছে পাঙাশ ও তেলাপিয়া। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে ৪ লাখ ৫ হাজার টন পাঙাশ এবং ৩ লাখ ৫৪ হাজার টন তেলাপিয়া উৎপাদিত হয়েছে। সম্মিলিতভাবে এ দুই প্রজাতির মাছের উৎপাদন দাঁড়ায় ৭ লাখ ৫৯ হাজার টনে। কিন্তু উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের সর্বাধিক উৎপাদিত মাছ দুটির দামও এখন আকাশচুম্বী।

দাম বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়ছে খুচরা বিক্রিতে। বাড্ডা বাজারের মাছ বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম জানান, বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও প্রত্যেকের কেনার পরিমাণ প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। আগে যিনি এক বা দুই কেজি মাছ নিতেন, তিনি এখন আধা কেজি বা এক কেজি কিনছেন। ফলে দাম বাড়লেও বিক্রি কমে যাওয়ায় ব্যবসায় লাভ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে কারওয়ান বাজারের পাইকারি মাছ বিক্রেতা আবুল কালাম জানান, প্রথমত মাছের খাবারের (ফিড) অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে খামারি পর্যায়ে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যে ট্রাকের ভাড়া ছিল ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা, তা এখন ২০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পরিবহন পথে লাইনম্যানসহ বিভিন্ন স্তরের বাড়তি খরচ। খামার থেকে পাইকারি ও খুচরা বাজার হয়ে সাধারণ ক্রেতার হাত পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রতিটি ধাপে এই বাড়তি ব্যয় যোগ হওয়ায় খুচরা বাজারে দাম বেড়ে গেছে।

মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাণিজ আমিষের সবচেয়ে সস্তা ও সহজলভ্য উৎস পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের মাছ খাওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে, যা জাতীয় পুষ্টি নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি তৈরি করতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাছের খাবারের দাম কমানো এবং সাশ্রয়ী খাদ্য উদ্ভাবনে কার্যকর গবেষণার ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পুষ্টির এই শেষ ভরসাটুকুও সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকা থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এসআই

Link copied!