• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮

এমন বেতন দিতে হবে যাতে কোনো শিক্ষককে প্রাইভেট পড়াতে না হয়


সোনালীনিউজ ডেস্ক জানুয়ারি ৯, ২০২২, ১১:৫৯ এএম
এমন বেতন দিতে হবে যাতে কোনো শিক্ষককে প্রাইভেট পড়াতে না হয়

শিক্ষকরা সমাজে সম্মানিত হলে ভালো শিক্ষার্থীরা শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখবে
শিক্ষকদের এমন বেতন দিতে হবে যাতে কাউকে প্রাইভেট পড়াতে না হয়, পার্ট-টাইম পড়াতে না হয়, সান্ধ্যকালীন ক্লাস চালুর ধান্দা করতে না হয়, রাজনীতি করে পদ পদবীর ধান্দা করতে না হয়। তবেই কেবল শিক্ষকরা সম্মানিত হবে। শিক্ষকরা সমাজের চোখে সম্মানিত হলে ভালো শিক্ষার্থীরা শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখবে।

ফলে আমরা আরো ভালো শিক্ষক পাবো এবং এইভাবে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষকদের সামাজিক মান উন্নয়ন ব্যতীত বাংলাদেশের সত্যিকারের উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষকদের দিয়ে ধান্দাবাজি করালে সমাজ যে ধান্দাবাজ দিয়ে ভরে উঠে তার প্রমান আজকের বাংলাদেশ।

যেদিন থেকে বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডার চাকুরী প্রত্যাশীদের কাছে সবচেয়ে পছন্দের চাকুরী হবে সেদিন থেকে বাংলাদেশের সত্যিকারের উন্নয়ন শুরু হবে। যেদিন থেকে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পর্যন্ত সবাই সমাজে মান মর্যাদা ও আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে পারবে সেদিন থেকে বাংলাদেশের সত্যিকারের উন্নয়ন শুরু হবে।

যেদিন থেকে শিক্ষার্থীরা দেখবে তাদের শিক্ষকরা অনেক জ্ঞানী, অনেক মানবিক, অনেক প্রতিবাদী সেদিন থেকে বাংলাদেশের সত্যিকারের উন্নয়ন শুরু হবে। যেদিন থেকে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ এবং নিয়োগ পরবর্তী প্রমোশন নিয়ে কোন শিক্ষককে কারো কাছে যেতে না হবে, কেবল নিজের যোগ্যতা অর্জনের ভিত্তিতে নিয়োগ ও প্রমোশন হবে সেদিন থেকে বাংলাদেশের সত্যিকারের উন্নয়ন শুরু হবে।

বিসিএসে যে শিক্ষা ক্যাডার পছন্দের তালিকার সর্বনিম্নে এটাই প্রমাণ করে আমাদের শিক্ষকরা সমাজে কতটা অবহেলিত। আবার বলার সময় বলি শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। অথচ বাজেট বরাদ্দের সময় যেখানে ইউনেস্কো বলে জিডিপির কমপক্ষে ৫.৫% দিতে হবে সেখানে আমাদের সরকার দেয় ২% এর কাছাকাছি।

যেই দেশের প্রতিটি ঘরে শিক্ষার্থী আছে। প্রতিটি ঘরের চাওয়া তাদের সন্তানদের উন্নত মানের শিক্ষা সেই দেশের সরকার শিক্ষাকে এত কম গুরুত্ব দেয় কিভাবে? কম দেয় কারণ সরকার চায়না দেশের মানুষ সত্যিকারের শিক্ষায় শিক্ষিত হউক।

তারা চায় সার্টিফিকেটধারির সংখ্যা বাড়ুক কিন্ত মানে যেন না বাড়ে। সত্যিকারের শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই সমাজ সচেতন হয়ে যাবে। অধিকার বুঝে ফেলবে। এই জন্যই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলান্ধদের ভিসি হিসাবে নিয়োগ দেয়।

এইজন্যই দেশের অনেক কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চালায়। তবুও কোথাও প্রতিবাদ নেই। এই প্রতিবাদ না থাকাটাই প্রমান করে দেশের মানুষ আসলে সত্যিকারের শিক্ষায় শিক্ষিত না।

লেখকঃ কামরুল হাসান মামুন,অধ্যাপক,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (লেখকের ফেসবুক ওয়াল থেকে সংগৃহীত)

সোনালীনিউজ/এন

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System