• ঢাকা
  • সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

‘ঢাকার কোনো বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের ইতিবাচক ভূমিকা ছিল না’


সোনালী ডেস্ক অক্টোবর ১২, ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
‘ঢাকার কোনো বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের ইতিবাচক ভূমিকা ছিল না’

ছবি: এআই তৈরি

ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন চুক্তি ও পুশইন ইস্যু নিয়ে যখন দেশজুড়ে নানা আলোচনা চলছে, ঠিক সে সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি লেপন ও তা নিয়ে তৈরি হওয়া নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনসিপি নেত্রী ঐশি পৃথ্বি। সম্প্রতি নিজের সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সমসাময়িক বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন।

পোস্টের শুরুতে ঐশি পৃথ্বি লেখেন, সাম্প্রতিক সীমান্ত হত্যা কিংবা পুশইন ইস্যুতে যখন বড় কোনো দৃশ্যমান প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না, তখন একদল মানুষ ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালি লেপন করেছে। এ ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেওয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশ যেভাবে পাহারা বসিয়েছে, তা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তাই নিশ্চিত করেছে যাতে কেউ সেখানে চুনকালি দিতে না পারে। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথকে অসম্মান করার সেই ঘটনার ভিডিওতে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট এক নারী সেখানে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে তৈরি হওয়া দুই মেরুর অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, এক পক্ষের দাবি-রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা করা মানেই সরাসরি বাংলাদেশের বিরোধিতা করা। এই দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, কবি গুরু ১৯৪১ সালে মারা গেছেন, আর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালে। তাছাড়া তিনি বেঁচে থাকাকালীন ঢাকার কোনো বিষয়ের পক্ষেই তাঁর কোনো ইতিবাচক ভূমিকা ছিল না বলে দাবি করেন এই নেত্রী।

অন্যদিকে, যারা রবীন্দ্রনাথকে অশ্রদ্ধা করছেন তাদের বাংলাদেশে থাকার অধিকার নেই-এমন ধারণার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য সঠিক নয়। কারণ তা যদি হয়, তবে বাংলাদেশের যত শ্রমজীবী এবং সাধারণ অশিক্ষিত মানুষ রয়েছেন, তাদের সবাইকে পাকিস্তানপন্থীর কাতারে ফেলতে হয়।

পোস্টে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহাসিক ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে বেশ কিছু বিতর্কিত ও সমালোচনামূলক মন্তব্যও তুলে ধরেন এই এনসিপি নেত্রী। তিনি দাবি করেন, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কাছে রবীন্দ্রনাথের চেয়ে লোকায়ত গান বা গণসংগীতের আবেদন অনেক বেশি। সাধারণ মানুষের সংস্কৃতির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ধান খেটে খাওয়ার সময় কোনো কৃষককে বা ট্রাক চালাতে চালাতে কোনো চালককে কিংবা রিক্সাচালককে রবীন্দ্রসংগীত গাইতে বা শুনতে দেখা যায় না। এর বিপরীতে নজরুলের ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’ গানটি সবাই শোনেন। এমনকি সীমান্তে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময় বিজিবি যখন মাইকে ‘ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি’ গানটি বাজিয়েছিল, তখন হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাই তাতে উদ্দীপনা ও সাড়া পেয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সবশেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই নেত্রী বলেন, নানা ঘটনার ভিড়ে বর্তমান সময়ে রবীন্দ্রনাথকে যেন একপ্রকার ‘শেখ রবীন্দ্রনাথ’ বানিয়ে ফেলা হচ্ছে-যা নিয়ে সমাজে এক ধরনের অস্বস্তিকর বিভাজন তৈরি হচ্ছে।


এসএইচ

Link copied!