যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় পালটাপালটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ইরান হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি জাহাজে হামলার দাবি করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় বলে জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। খবর রয়টার্সের।
ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে নৌপরিবহণের বা বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ক্ষেত্রে এটিই দুই পক্ষের সবচেয়ে বড় পালটাপালটি হামলা বলে জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাটি।
এসব ঘটনায় একটি ট্যাংকারে থাকা অন্তত একজন নাবিক নিহত ও আরেকজন নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইরান আরও জানিয়েছে, তারা জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। জর্ডান বলেছে, তারা ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করেছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। এতে কোনো ক্ষতি হয়নি। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সব মার্কিন সেনা নিরাপদে আছেন।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আরও হামলা হলে পালটা জবাবের মাত্রা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে সমুদ্রে নতুন করে বড় একটি নিষিদ্ধ এলাকা নির্ধারণের কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি।
আইআরজিসি বলেছে, শিগগিরই ওই নতুন নিষিদ্ধ এলাকার মানচিত্র প্রকাশ করা হবে। এলাকাটি পাকিস্তানের উপকূলের কাছের চাবাহার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে বলে জানিয়েছে তারা।
এদিকে, ইকুয়েডর সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সংঘাতের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো কোনো বাহ্যিক সামরিক বা কৌশলগত সহযোগিতা ইরান পাচ্ছে না। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে প্রতিনিয়ত চড়ামূল্য দিতে হচ্ছে। গত রাতে তেহরান আরও পাঁচটি ট্যাংকার হারিয়েছে। যার মধ্যে চারটি ক্ষতিগ্রস্ত ও একটি সাগরে ডুবে গেছে।
গত এক মাস তুলনামূলক শান্ত থাকার পর এসব হামলা হলো। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে চাপে রাখার চেষ্টা করছিল।
হামলার পর বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম গত জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি
এম

















-20260911030407.jpg)





















