• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ ও থাকছে না ঢাকা


নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ ও থাকছে না ঢাকা

ছবি: এআই তৈরি

উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর আন্তর্জাতিক জোট ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এখন বিশ্ব রাজনীতির নজর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে। আগামী শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অন্তত ২১টি দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও বহুপক্ষীয় কূটনীতির টানাপোড়েনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের শি জিনপিং এবং ইরানের মাসুদ পেজেশকিয়ানের মতো প্রভাবশালী নেতাদের উপস্থিতি বৈশ্বিক রাজনীতিতে আলাদা গুরুত্ব তৈরি করেছে।

তবে আঞ্চলিক কূটনীতির ময়দানে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুপস্থিতি।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ আমন্ত্রিত হলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এতে প্রধানমন্ত্রী কিংবা ঢাকার কোনো প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন না। 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশ জোটের মূল সদস্য না হওয়ায় এই আমন্ত্রণটি মূলত বিমসটেকের চেয়ারম্যান পদের জন্য ছিল। ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর বহুপক্ষীয় কোনো সম্মেলনে হতে পারে না। ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে কৌশলগত ও রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূল হলে ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফরের পথ খোলা রাখা হয়েছে।

ভারতের প্রস্তাবিত চাণক্যপুরীতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ‘বিল্ডিং ফর রেজিলিয়েন্স, ইনোভেশন, কোঅপারেশন অ্যান্ড সাস্টেইনেবিলিটি’। পশ্চিমা ডলার নির্ভরতার বিকল্প হিসেবে স্থানীয় মুদ্রায় দ্বিপক্ষীয় লেনদেন বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন সদস্য দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী ও অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারকেরা।

মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব অর্থনীতির নানা সংকটের মাঝে ব্রিকসের ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণ গ্লোবাল সাউথের ওপর জোটের আধিপত্য আরো মজবুত করছে।

আঞ্চলিক নেতৃত্বের দ্বৈরথ, জলবায়ু কূটনীতি এবং বাণিজ্য সহজীকরণের নানা সমীকরণ এই সম্মেলনকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর করে তুলেছে। ঢাকা আপাতত এই প্ল্যাটফর্ম থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও, দিল্লি শীর্ষ সম্মেলনের সিদ্ধান্তগুলো পুরো দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি ও নতুন কূটনৈতিক চালচিত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এসএইচ 

Link copied!