• ঢাকা
  • রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বিশ্ব মা দিবস আজ


নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৪, ১০:২০ এএম
বিশ্ব মা দিবস আজ

ঢাকা : একটি অক্ষরের একটি শব্দ 'মা'। এই একটি শব্দে সব ভালোবাসা-আবেগ মিলিত হয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে মধুরতম শব্দ হয়ে উঠেছে। আমাদের সমাজে নানা রকম সম্পর্কের বেড়াজাল রয়েছে। সম্পর্কের বাঁধন ছিন্ন করে কেউ দূরে চলে গেলে কিংবা মানুষে মানুষে দূরত্ব তৈরি হতেও পারে; কিন্তু 'মা'-এর স্নেহ-ভালোবাসার বন্ধন কখনো ছিন্ন হয়েছে- এমন দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে বিরল।

মা একটি সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন, অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করে সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান। 'মা' সব সময় সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন। সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে সন্তান যাতে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে, মানুষের মতো মানুষ হতে পারে- এ ধ্যানে 'মা' মগ্ন থাকেন। আর তাই কবি কাজী কাদের নেওয়াজ 'মা' কবিতায় বলেছেন-'মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই/ ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই।'

মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্যই প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার একটা বিশেষ দিন পালিত হয়। সেটা হলো বিশ্ব মা দিবস। পুরো বিশ্বে দিবসটি পালিত হয় মায়ের প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে। মায়ের প্রতি সীমাহীন শ্রদ্ধা, সন্তানের চিরন্তন, অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসায় অবনত হওয়ার দিন হচ্ছে আজকের মা দিবসের চেতনা।

১৯০৮ সালে সর্বপ্রথম মা দিবস উদযাপন করেছিলেন আন্না জার্ভিস নামে এক ব্যক্তি। পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় নিজের মায়ের স্মৃতিরূপে এই বিশেষ দিনটি উৎসর্গ করেছিলেন তিনি। এই বিশেষ দিনটি বিশ্বজুড়ে মাতৃত্ব ও মাতৃসত্তার গুরুত্ব এবং তাৎপর্য স্মরণ করিয়ে দেয়। আমাদের আবারও একবার স্মরণ করিয়ে দেয় পৃথিবীতে আমাদের

সন্তানের জন্য সব থেকে বেশি যে আত্মত্যাগ করতে পারেন সেই নামটিই হলো মা। স্বার্থপর এই দুনিয়াতে নিঃস্বার্থভাবে শুধু মাই আমাদের ভালোবাসতে পারেন। একটি শিশুর জন্ম থেকে শুরু করে তার বড় হয়ে ওঠা পর্যন্ত সময়কালটি আবর্তিত হয় মাকে ঘিরে। প্রকৃতির নিয়ম হচ্ছে নারী হবে মা। এটি নারীর প্রকৃতিগত প্রাপ্তি। নারীর মা হওয়া তার জীবনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। একটি সদ্যজাত শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো থেকে শুরু করে তাকে তিল তিল করে বড় করে তোলার দায়িত্বটি পরম যত্ন ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন মা। যে মা সন্তানে ভ্রম্নণ থেকে শুরু করে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর অপরিসীম মায়া-মমতায় পৃথিবীর বুকে ধীরে ধীরে বড় করে তোলেন, মানুষের কোনো ভাষাতেই, কোনো কথাতেই বুঝি সেই মায়ের অবদানের পূর্ণ পরিচয় তুলে ধরা যায় না। মা তো মা-ই। মায়ের কোনো তুলনা হয় না। শ্রদ্ধা, সম্মান, ভক্তি, সেবা, ভালোবাসা দিয়ে মা'র দানের হয়তো কিছুটা প্রতিদান দেওয়া যেতে পারে। এরপরও 'মা-এর ঋণ কখনো শোধ হবার নয়'। কবির ভাষায়- 'পথের ক্লান্তি ভুলে স্নেহ ভরা কোলে তব/ মাগো, বলো কবে শিতল হবো/ কত দূর আর কত দূর বল মা/ আঁধারের ভ্রম্নকুটিতে ভয় নাই,/ মাগো তোমার চরণে জানি পাবো ঠাঁই,/ যদি এ পথ চলিতে কাঁটা বেঁধে পায়/হাসিমুখে সে বেদনা সবো'।

মূলত এ পৃথিবীতে মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কের চেয়ে মধুর সম্পর্ক আর নেই। নদীর মতো প্রবহমান মানুষের জীবন। নদী প্রবাহ যেমন থেমে থাকে না, মানুষের জীবনও সেরকমই। জীবনের চলার পথে মানুষ এগিয়ে যেতে থাকে। এ চলমান জীবনের একটি পর্যায়ে নারী এসে পুরুষের সঙ্গে বিবাহের অচ্ছেদ্য বন্ধনে বাঁধা পড়ে। জীবনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। প্রেম-ভালোবাসা-সংসারের দিনযাপন আর অভিজ্ঞতার পথ বেয়ে পুরুষ হয় পিতা আর স্ত্রী হয় মা। মাতৃত্ব হচ্ছে নারীর চিরন্তন রূপ।

সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষকে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দেখা যায়। সব কালে, সব দেশে চিরকালই মায়ের ভূমিকা এক ও অভিন্ন। প্রতিটি মা'ই সন্তানের প্রতি যেমন যত্নবান তেমনি তার অমঙ্গলের ব্যাপারে শঙ্কিত। পৃথিবীর সব দেশের মা-ই সন্তানের মৃতু্যতে বুক চাপড়ে কাঁদেন, তার আহাজারিতে ভরে ওঠে আকাশ-বাতাস। কোনো প্রলোভন দিয়েই কোনো মাকে তার সন্তানের বিরুদ্ধে কোনো ক্ষতিকর কাজে লিপ্ত করানো যায় না। সন্তান বড় হলেও তার জন্য প্রয়োজনে নিজের জীবন দিতেও দ্বিধা করেন না কোনো মা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মা-কে নিয়ে অসামান্য অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন- 'আমার মায়ের নাম সায়েরা খাতুন। তিনি কোনো দিন আমার আব্বার সাথে শহরে থাকতেন না। তিনি সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন, আর বলতেন, আমার বাবা আমাকে সম্পত্তি দিয়ে গেছেন যাতে তার বাড়িতে আমি থাকি। শহরে চলে গেলে ঘরে আলো জ্বলবে না, বাবা অভিশাপ দেবে।'

আব্রাহাম লিংকন বলেছেন, 'যার মা আছে সে কখনই গরিব নয়।' কবি-সাহিত্যিকরাও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি-ভালোবাসা জানাতে রচনা করেছেন শত শত কবিতা। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম 'মা' কবিতায় মায়ের যে অপরূপ ছবিটি এঁকেছেন তা অতুলনীয়-'যেখানেতে দেখি যাহা/ মা-এর মতন আহা/একটি কথায় এত সুধা মেশা নাই,/মায়ের মতন এত/আদর সোহাগ সে তো/আর কোনখানে কেহ পাইবে ভাই!'

কবিদের কলমের আঁচড়ে মায়ের যে রূপটি ফুটে উঠেছে তা মিষ্টি-মধুর, চিরচেনা। শুধু কবিতা বা সাহিত্যেই নয়, পৃথিবীর সব ধর্মেও মাকে উচ্চাসনে বসানো হয়েছে। মায়ের স্নেহ ফল্গুধারার মতো স্বতঃউৎসারিত এবং অফুরন্ত সম্পদ। ধনী বা দরিদ্র অবস্থার ওপরও মায়ের স্নেহ-ভালোবাসা নির্ভর করে না। মা সর্বংসহা ধরণীর মতোই শত বিপদে সন্তানকে আগলে রাখেন।

এমটিআই

Wordbridge School
Link copied!