১৩ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণে শিক্ষক স্বামী পলাতক ও স্ত্রী গ্রেপ্তার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
১৩ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণে শিক্ষক স্বামী পলাতক ও স্ত্রী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সাভারে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল বারী (৫০) পলাতক থাকলেও, ধর্ষণে সহায়তা ও ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী ও মাদ্রাসার পরিচালক তোহফাতুল জান্নাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত বুধবার সকাল ১০টার দিকে বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর এলাকার ‘তোহফাতুল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসা’র ভেতরের একটি কক্ষে এই নৃশংসতার ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে মাদ্রাসার একটি কক্ষে প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল বারী ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর স্ত্রী তোহফাতুল জান্নাহর সহযোগিতায় ভুক্তভোগী ছাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা করান এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত মাদ্রাসার ভেতর আটকে রাখেন। কাউকে কিছু জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। পরে মাদ্রাসার এক রান্নাবান্নার সহকারীর সহায়তায় মেয়েটি কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে বাড়ি ফিরে তার দাদাকে সব খুলে বলে।

পরিবারের মাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা রাতে মাদ্রাসা ও শিক্ষকের বাসভবন ঘেরাও করে অভিযুক্তের স্ত্রী ও ছেলেকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জনতা পুলিশের কাজেও বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে সন্ধ্যায় মাদ্রাসা ও অভিযুক্তের বাসভবনের দুটি কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাতে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্য, অভিযুক্তের স্ত্রী তোহফাতুল জান্নাহ ও তাঁর ছোট ছেলেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এলাকায় নতুন করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান অন্য ছাত্রীদের বরাত দিয়ে অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্ত আব্দুল বারীর স্ত্রী নিজেই বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রীদের তাঁর স্বামীর সঙ্গে মেলামেশা করতে চাপ দিতেন। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনো নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাদার দায়ের করা মামলায় আব্দুল বারীর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া পুরো ঘটনায় তাঁর স্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এসএইচ 

Link copied!