করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র থেকে কিং কোবরার বাচ্চা উদ্ধার

  • বাগেরহাট প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র থেকে কিং কোবরার বাচ্চা উদ্ধার

ছবি : প্রতিনিধি

‎বাগেরহাট: ‎সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী লালন পালন ও প্রজনন কেন্দ্র এলাকা থেকে প্রায় ৯ ফুট লম্বা একটি বিষধর কিং কোবরা (রাজগোখরা) সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। অবশ্য এই সাপটি কোন পর্যটকদের  আঘাত বা দংশন করেনি। পরে সেটিকে নিরাপদ দূরত্বে বনের গহীনে অবমুক্ত করা হয়। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎‎তিনি জানান, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ) ভোরে করমজল জামে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে নিজ রুমে ফেরার পথে হরিণের খাঁচার পাশের রাস্তায় সাপটি তিনি ও মসজিদের ইমাম দেখতে পান। পরে রাস্তা থেকে সাপটিকে সরিয়ে বনের ভিতর ছেড়ে দেওয়া হয়।‎

‎কিং কোবরা পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ ও বিষধর সাপ। এর বিষদাঁত খুব লম্বা এবং এর আক্রমণ ক্ষমতা এত বেশি যে হাতির পুরু চামড়াও ভেদ করতে পারে, যার কারণে হাতিও এদের ভয় পায় ও এড়িয়ে চলে। পৃথিবীর একমাত্র সাপ হিসেবে এরা নিজেরাই বাসা তৈরি করে ডিম পাড়ে। সাধারণত ২৫টির মতো ডিম পাড়ে এবং শতভাগ ডিম থেকেই বাচ্চা ফোটে।

‎এদের প্রধান খাদ্য অন্য প্রজাতির সাপ। তবে খাবার না পেলে অনেক সময় এরা নিজেদের বাচ্চাও খেয়ে ফেলে। ছোট অবস্থায় সব বাচ্চাকে একই রকম দেখালেও বড় হওয়ার পর পুরুষ সাপগুলো কালো বর্ন ধারণ করে এবং  ৯ থেকে ১০ ফুট লম্বা হয় এবং স্ত্রী সাপগুলো সাদাটে বর্ন হয়। যা ১৫ থেকে ১৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা  হয়ে থাকে।

‎করমজল এলাকায় সাধারণত ৯ ফুট পর্যন্ত পুরুষ এবং ১৩ ফুট পর্যন্ত স্ত্রী কিং কোবরা পাওয়া গেছে।

‎বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকা এবং সুন্দরবনের করমজল অঞ্চলে প্রচুর কিং কোবরার দেখা মেলে। সাপটি অত্যন্ত বিষধর হওয়ায় এবং কামড়ালে চিকিৎসার সময় খুবই কম পাওয়ায় সুন্দরবনে চলাচলকারী পর্যটক ও বনজীবীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পিএস

Link copied!