• ঢাকা
  • বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮

জমির খতিয়ান-ম্যাপ ঘরে বসেই যেভাবে পাবেন


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ৮, ২০২২, ০৮:১৯ পিএম
জমির খতিয়ান-ম্যাপ ঘরে বসেই যেভাবে পাবেন

ঢাকা: এখন ঘরে বসেই ‘১৬১২২’ নম্বরে ফোন করে চার মিনিটেই খতিয়ান কিংবা মৌজা ম্যাপের আবেদন করা যাবে। ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে মুহূর্তে দেওয়া যাবে ফি। একই সঙ্গে ঘরে বসে পরিশোধ করা যাবে ভূমি উন্নয়ন কর।

শনিবার (৮ জানুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঘরে বসে জমির খতিয়ান ও ম্যাপ সংগ্রহ ও ভূমিকর পরিশোধের উপায় জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, বাসায় বসে মোবাইল অ্যাপ কিংবা ওয়েব প্ল্যাটফর্মে দৈনন্দিন ব্যবহার্য দ্রব্যাদি, বই কিংবা খাবারের অর্ডার দেওয়া থেকেও এখন সহজ জমির খতিয়ান (পর্চা) কিংবা ম্যাপ পাওয়া। খতিয়ান কিংবা ম্যাপ পেতে মোবাইল অ্যাপ কিংবা ওয়েব প্ল্যাটফর্মে ঢুকেও আবেদন করতে হবে না। তাই ডিজিটাল ভূমি সার্ভিস গ্রহণে স্মার্ট ফোন থাকার বাধ্যবাধকতাও আর থাকছে না।

যেকোনো ফোন থেকে শুধু ‘১৬১২২’ নম্বরে ফোন করলেই হবে। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে ভূমিসেবা হটলাইনে অপারেটররা গ্রাহকের হয়ে বাকি কাজ করে দেবেন। ১৬১২২-তে ফোন করে চার মিনিটেই খতিয়ান কিংবা মৌজা ম্যাপের আবেদন করা যাবে। একইভাবে ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করা যাবে।

ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস যেমন নগদ, রকেট, বিকাশ, উপায় এবং যেকোনো ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ফি দেওয়া যাবে। ‘১৬১২২’ নম্বরে ফোন করা ছাড়াও জমির মালিক নিজেই land.gov.bd ভূমিসেবা ওয়েব প্ল্যাটফর্মে গিয়ে মোবাইলের ভূমিসেবা অ্যাপ দিয়ে কিংবা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) সহায়তায় আবেদন করতে পারেন।

যেভাবে পাওয়া যাবে জমির খতিয়ান-ম্যাপ
ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবেদনকারী ‘১৬১২২’ নম্বরে ফোন করে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ (এনআইডি) জমির তথ্য দেওয়ার পর কল-সেন্টার আবেদনকারীর পক্ষে খতিয়ান কিংবা জমির ম্যাপের আবেদন দাখিল করবে। এরপর আবেদনকারী তার মোবাইলে একটি টোকেন পাবেন। আবেদনকারী টোকেন নম্বরটি দিয়ে মোবাইলের মাধ্যমে ফি দিলে তিনি মোবাইলে আবেদনের আইডি ও ডেলিভারির তারিখ পাবেন। নির্দিষ্ট তারিখে বাংলাদেশ ডাকবিভাগের প্রতিনিধি আবেদনকারীর ঠিকানায় খতিয়ান তথা পর্চা কিংবা জমির ম্যাপ পৌঁছে দেবে।

এছাড়া ভার্চুয়াল রেকর্ডরুম থেকে যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো নাগরিক খতিয়ান (পর্চা) দেখতে পারবেন। সার্টিফাইড কপি কাউন্টার থেকে ডেলিভারির জন্য কোর্ট ফি ৫০ টাকা। ডাকযোগে নিজ ঠিকানায় খতিয়ান ডেলিভারির জন্য অতিরিক্ত ৪০ টাকা দিতে হবে বলেও জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

যেভাবে পরিশোধ করা যাবে ভূমি উন্নয়ন কর
ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করার জন্য ১৬১২২ নম্বরে কল করে (কিংবা land.gov.bd থেকে) এনআইডিসহ জমির তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের তথ্য পাওয়ার পর ইউনিয়ন ভূমি অফিস অনুমোদন দিলে হোল্ডিং এন্ট্রি শেষ হবে। হোল্ডিং নম্বরের তথ্য আবেদনকারীকে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হবে। এরপর নাগরিককে ফের ১৬১২২ নম্বরে কল করে হোল্ডিংয়ের তথ্য দিতে হবে।

কল সেন্টার থেকে নাগরিকের মোবাইলে টোকেন নম্বরের এসএমএস আসবে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পে-বিলের মাধ্যমে টোকেন নম্বর দিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভূমি মালিক তার জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারবেন। ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ডিজিটাল দাখিলা নাগরিকের অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ সব সেবার ফলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারী কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ কমবে এবং ই-পর্চা, ই-রেজিস্ট্রেশন, এলডি ট্যাক্স সিস্টেম, ভার্চুয়াল শুনানি সিস্টেমের সঙ্গে সংযোজন করা (ইন্টিগ্রেশন) হবে। এছাড়া, নাগরিকদের এখন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সরকারি কোষাগারে ফি জমা দেওয়ার এবং ভূমি অফিসে না গিয়ে অনলাইনে ডুপ্লিকেট কার্বন রসিদ (ডিসিআর) সংগ্রহ করার সুযোগ হয়েছে। এতে মানুষের অর্থ-খরচ ও ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হবে।

গত ৫ জানুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবন মিলনায়তনে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ডাকযোগে ভূমিসেবা, ভূমিসেবায় ডিজিটাল পেমেন্ট এবং কল সেন্টারের উদ্বোধন করেন।

সোনালীনিউজ/এন

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System