• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

পে-স্কেল বাস্তবায়ন আটকে আছে কেন, জানা গেল আসল কারণ


নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
পে-স্কেল বাস্তবায়ন আটকে আছে কেন, জানা গেল আসল কারণ

বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিতে বলা হয়েছে বাংলাদেশকে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মনে করছে, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সংঘাত—বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে আরও তীব্রভাবে পড়তে পারে।

সংস্থাটির মতে, এ পরিস্থিতিতে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সামাল দেওয়াও সরকারের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি ও খাদ্য খাতে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

আইএমএফ আরও উল্লেখ করেছে, শুধুমাত্র সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো হলে বেসরকারি খাতের কর্মীদের ওপর পরোক্ষ চাপ তৈরি হতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে বৈষম্য বাড়াতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন আপাতত স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সরকারও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধীরগতির কৌশল গ্রহণ করেছে। জানা গেছে, পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দেওয়ার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধেই সরকারের ব্যাংক ঋণ অর্ধলাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে, যা বছর শেষে আরও বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে এগোনোর চিন্তা করছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচিত হয়েছে এবং প্রস্তাবটি পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের একাংশও সরাসরি পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিপক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের পরামর্শ, পূর্ববর্তী পে-কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন না করে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন করে মূল্যায়ন করা উচিত। এজন্য আলাদা একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাবও এসেছে।

এদিকে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, রাজনৈতিক ও আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাজেট প্রণয়নের সময় পে-স্কেল ইস্যুটি নতুন করে পর্যালোচনা করা হতে পারে।

এম

Wordbridge School
Link copied!