ফাইল ছবি
দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অনুমোদিত হলো নবম জাতীয় বেতন কাঠামো। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর পহেলা জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এটি কার্যকর হচ্ছে। সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বেতন বৃদ্ধিতে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে এই বিপুল আর্থিক খরচের সংস্থান এবং সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে ২৩ লাখের বেশি সামরিক, বেসামরিক ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এই সুবিধার আওতায় আসছেন। নবম পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হবে বছরে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এই বিশাল ব্যয়ের বড় একটি অংশ এখনও অনিশ্চিত। যদিও চলতি বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, বাকি অর্থের জন্য সরকারকে বেশ বেগ পেতে হবে।
অর্থনৈতিক সংকট ও রাজস্ব আহরণে মন্দার কারণে এই অর্থ জোগাড় করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাজার বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন পে-স্কেলের ব্যয় মেটাতে গিয়ে সরকারকে ব্যাংক থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)। সরকারের উন্নয়ন বাজেট কাটছাঁট করতে হলে সামগ্রিক অবকাঠামোগত গতি শ্লথ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনৈতিক এই ধাক্কা সামলাতে সরকার দুই বছরের কৌশল হাতে নিয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে তিন ধাপে মূল বেতন বাড়ানো হবে এবং ২০২৮ সাল থেকে যুক্ত হবে অন্যান্য ভাতা। তবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হলেও বাজারে এর মানসিক প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। নতুন বেতনের অজুহাতে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে।
সরকারি খাতের এই বিপুল বেতন বৃদ্ধির ফলে বেসরকারি খাতেও এক ধরণের অসন্তোষ ও সামাজিক বৈষম্য তৈরির ঝুঁকি রয়েছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন বেসরকারি খাতের স্বল্প আয়ের মানুষ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাজারে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি অপ্রয়োগীয় সরকারি খরচ কমানো অত্যন্ত জরুরি। না হলে, নতুন পে-স্কেলের স্বস্তি শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির উদ্বেগে পরিণত হতে পারে।
এসএইচ







































