• ঢাকা
  • বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

এআই বিপ্লবে পিছিয়ে পড়ছে প্রান্তিক শিশুরা


নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
এআই বিপ্লবে পিছিয়ে পড়ছে প্রান্তিক শিশুরা

ফাইল ছবি

শিক্ষা ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গৃহশিক্ষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শহরের কোনো শিশু যখন সহজেই এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে জটিল অংক বা ইংরেজির কঠিন পাঠ বুঝে নিচ্ছে, তখন গ্রামের সিংহভাগ শিশুর কাছে এই প্রযুক্তি এখনো অচেনা এক স্বপ্ন। প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগে তৈরি হওয়া এই ডিজিটাল বৈষম্য শিক্ষার মান ও ভবিষ্যৎ সুযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি করছে।

সম্প্রতি মাঠ পর্যায়ে পরিচালিত এক বিশেষ জরিপে দেখা গেছে, শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী এআই সম্পর্কে জানলেও গ্রামের ৭০ শতাংশ শিশুরই এ সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। পড়াশোনার কাজে শহরের ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী এআই ব্যবহার করলেও গ্রামে এই হার মাত্র ৬ শতাংশ। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, গ্রামীণ অভিভাবকদের ৯০ শতাংশই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নাম পর্যন্ত শোনেননি। অথচ শহরের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন নিয়মিত ল্যাবে কোডিং ও রোবটিকস শেখানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, ডিভাইসের অভাব এবং ইন্টারনেট সুবিধার তারতম্যই এই বৈষম্যের মূল কারণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে যেখানে ৭৫ শতাংশের বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে, গ্রামাঞ্চলে তা অর্ধেকের কাছাকাছি। এছাড়া গ্রামাঞ্চলে কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মতো প্রয়োজনীয় ডিভাইসের সুযোগ চরমভাবে সীমিত। ফলে মোবাইল ফোন থাকলেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ডিভাইস ভাগাভাগি করতে গিয়ে পড়াশোনায় এর ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে এআই ব্যবহারের কিছু নেতিবাচক দিক নিয়েও সতর্ক করছেন শিক্ষাবিদরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা কোনো কিছু নিজে চিন্তা না করে সব কাজের জন্য এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়লে তাদের নিজস্ব মননশীলতা ও সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই অন্ধভাবে উত্তর না খুঁজে এআইয়ের তথ্য যাচাই করার দক্ষতা গড়ে তোলা জরুরি।

শিক্ষায় এই ডিজিটাল ব্যবধান কমাতে এবং প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির আওতায় আনতে সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের আইসিটি প্রশিক্ষণ এবং প্রাথমিক স্তরে এআইভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও স্পষ্ট করেছেন যে, প্রযুক্তির সুফল যেন কেবল সচ্ছল শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তা সব স্তরের শিক্ষার্থীর দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, কেবল বিদ্যালয়ে কিছু ডিভাইস বিতরণ করলেই বৈষম্য দূর হবে না। এর জন্য প্রয়োজন মানসম্মত ইন্টারনেট সংযোগ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, শিক্ষকদের সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ এবং বাংলা ভাষার উপযোগী নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল শিক্ষাউপকরণ। পরিকল্পিত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রযুক্তির এই নতুন বিপ্লব উল্টো শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্যের দেয়াল আরও দীর্ঘ করে তুলতে পারে।

এসএইচ 
 

Link copied!