• ঢাকা
  • শনিবার, ২৫ জুন, ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯

কে হাসবে শেষ হাসি


ক্রীড়া ডেস্ক মে ২৭, ২০২২, ০৭:৪৫ পিএম
কে হাসবে শেষ হাসি

ঢাকা: ক্লাব ফুটবলে সবচেয়ে জনপ্রিয় চ্যাম্পিয়নস লিগ। আর তাই তো শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ের দিকে তাকিয়ে সবাই। শনিবার রাতে ফ্রান্সের প্যারিসে ইউরোপসেরা লড়াইয়ে নামবে রিয়াল মাদ্রিদ ও লিভারপুল।

এদিকে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা হাতছাড়া করা লিভারপুলের সব মনোযোগ এখন চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালকে ঘিরে। ২০১৮ সালের ফাইনালে রিয়ালের কাছে হেরে স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়া লিভারপুল শিবিরে এবার প্রতিশোধে আগুন জ্বলছে।

৩২ দলের তীব্র প্রতিযোগিতা শেষে আকাঙ্ক্ষিত ইউরোপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে টিকে আছে এখন শুধু রিয়াল মাদ্রিদ ও লিভারপুল। রাতটা কার জন্য হতে যাচ্ছে বর্ণিল, আর কার হৃদয় ভেঙে হবে খানখান, সেটা জানা যাবে কাল রাতেই। 

রিয়াল ও লিভারপুলের চ্যাম্পিয়নস লিগের শুরুর দিকের অভিজ্ঞতা ছিল বেশ আলাদা। লিভারপুল টানা ছয় ম্যাচ জিতে গ্রুপের শতভাগ সাফল্য নিয়ে ওঠে নকআউটে। সেখানেও খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জায়ান্টদের। ইন্টার মিলানকে শেষ ষোলোতে ২-০ ও ১-০ গোলে হারিয়ে ওঠে সেরা আটে।

লিভারপুল চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম জয়বঞ্চিত হয় বেনফিকার কাছে ঘরের মাঠে। দ্বিতীয় লেগে ৩-৩ গোলে ড্র করলেও প্রথম লেগ ৩-১ গোলে জিতে আসায় সেমিফাইনালে যেতে অসুবিধা হয়নি তাদের। অবশ্য ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ধাক্কা খেতে হয়েছিল। ভিয়ারিয়ালকে ঘরের মাঠে ২-০ গোলে হারানোর পর প্রতিপক্ষের মাঠে ২ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল। সব আশঙ্কা দূর করে অবশ্য ৬২ থেকে ৭৪ মিনিটে তিন গোল করে সেমিফাইনালে উঠে যায় লিভারপুল।

গ্রুপ পর্বের শুরুতেই অঘটনের শিকার ইন্টার মিলানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে জয় পাওয়া রিয়ালের। মলদোভান ক্লাব শেরিফ তিরাসপোলের কাছে ১-২ গোলে হার। ওই ধাক্কা যেন নতুন করে ঘুরে দেখাতে শেখায় ১৩ বারের চ্যাম্পিয়নদের। 

গ্রুপের বাকি চার ম্যাচ জিতে শীর্ষে থেকে নকআউট নিশ্চিত করে রিয়াল, যেখানে একের পর এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ১৭তম ফাইনালে পৌঁছায়। শেষ ষোলোর প্রথম লেগে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে পরাজয় নিয়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর মাঠ থেকে ফেরে তারা। ঘরের মাঠেও ফরাসি ফরোয়ার্ড তাদের পিছিয়ে দেন। কিন্তু হার মানার নয় রিয়াল, ফর্মের তুঙ্গে থাকা করিম বেনজেমা হ্যাটট্রিক করে মেসিদের বিদায় করে দলকে তোলেন কোয়ার্টার ফাইনালে।

শেষ আটে রিয়ালের প্রতিপক্ষ গতবারের চ্যাম্পিয়ন চেলসি। বেনজেমার ফের হ্যাটট্রিক, ৩-১ গোলে ব্লুদের মাঠ থেকে জিতে এসেও স্বস্তিতে ছিল না মাদ্রিদ ক্লাব। তাদের শঙ্কা যেন আরও বেড়ে যায় ৭৫ মিনিটের মধ্যে তিন গোল খেলে, দুই লেগের অগ্রগামিতায় চেলসি এগিয়ে যায় ৪-৩ গোলে। আবারও প্রত্যাবর্তনের গল্প, রদ্রিগো গোল করে রিয়ালের আশা বাঁচান। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে ফের নায়ক বেনজেমা, ফরাসি ফরোয়ার্ডের গোলে ৫-৪ এ সেমিফাইনালে রিয়াল।
 
শেষ চারেও রিয়ালের প্রতিপক্ষ গতবারের ফাইনালিস্ট ম্যানচেস্টার সিটি, যাদের মাঠে গিয়ে তোপের মুখে পড়তে হয়েছিল। ৪-৩ গোলে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে প্রথম লেগ হারের পর দ্বিতীয় লেগেই থেমে যেতে বসেছিল তাদের যাত্রা। ৭৩ মিনিটে রিয়াদ মাহরেজ গোল করলে ম্যানসিটির দ্বিতীয় ফাইনাল ছিল হাতছোঁয়া দূরত্বে। কিন্তু শেষ মুহূর্তের নায়ক বনে যাওয়া রদ্রিগো আবারও এলেন ত্রাতা হয়ে। ৯০ ও ৯১তম মিনিটে দুই গোল করে ম্যাচ নিলেন অতিরিক্ত সময়ে, যেখানে বেনজেমার পেনাল্টিতে ভর করে টানা তিনবার প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখে রিয়াল।

এই হলো তাদের ফাইনালে উঠে আসার গল্প। ধাক্কা খেতে খেতে ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস বেশ কাজে দেবে রিয়ালকে। তাদের তারকা খেলোয়াড় বেনজেমা আছেন ফর্মের একেবারে চূড়ায়।  লা লিগা জিতে এবার দলকে ইউরোপ সেরা করতে উন্মুখ তিনি। পঞ্চম চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি জয়ের হাতছানি তার সামনে, আর নিজেই সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ১৫ গোল করে। আর দুটি গোল করলে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতা রিয়ালেরই সাবেক তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর  (১৭) পাশে বসবেন বেনজেমা।

তবে রিয়াল যখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে, তখন লিভারপুর টগবগ করে ফুটছে। তাদের রক্তে প্রতিশোধের নেশা। ২০১৮ সালে এই দলের কাছে ফাইনালে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল অলরেডদের। পরের বছর ষষ্ঠবার ইউরোপ সেরার মর্যাদা পেলেও সেই দুঃখ ভোলেনি তারা। আর শিরোপার লড়াইয়ে সামনে যেহেতু সেই রিয়ালই, তখন তো নতুন করে মনে পড়ারই কথা।

ওই ম্যাচে ইনজুরিতে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে মাঠ ছেড়ে যেতে হয়েছিল মোহাম্মদ সালাহকে। তারপর হারের কষ্ট। এই দুটি হতাশা একসঙ্গে মিলে বদলা নেওয়ার জন্য যেন তর সইছে না মিশরীয় ফরোয়ার্ডের। ১২ ম্যাচে করেছেন ৮ গোল। কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ কিন্তু ওসব প্রতিশোধের চিন্তায় নেই, ‘আমি প্রতিশোধে বিশ্বাসী নই। আমি মনে করি না প্রতিশোধ চমৎকার কোনো ধারণা। আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারছি কিন্তু আমি নিশ্চিত নয় সেটা করা ঠিক হবে কি না।’

প্রতিশোধের চিন্তা যেন দলের ওপর বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই প্রচেষ্টার প্রতিফলন ক্লপের এই বক্তব্যে। তবে দিন শেষে তার চাওয়া একটাই, লিভারপুল জিতুক। 

অন্যদিকে রিয়াল কোচ আনচেলত্তি কিন্তু নির্ভার। তার মতে, দলের খেলোয়াড়রা এতটাই অভিজ্ঞ যে তাদের নতুন করে শেখানোর কিছু নেই। অবশ্য চলতি মৌসুমে দলের বেশ কয়েকটি প্রত্যাবর্তনের ভিডিও দেখিয়ে বেনজেমাদের উজ্জীবিত করে যাচ্ছেন ইতালিয়ান কোচ।

শেষ পর্যন্ত উজ্জীবিত রিয়াল বনাম প্রতিশোধের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা লিভারপুলের ফাইনাল শেষে কার হাতে ওঠে ট্রফি, সেটাই দেখার।

সোনালীনিউজ/এআর

Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System