বিশ্বের বড় শহরগুলো দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় শহরগুলো কি সেই গতিতে প্রস্তুত হতে পারছে? নতুন এক বৈশ্বিক বিশ্লেষণ বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর জন্য বিষয়টি উদ্বেগজনক।
জলবায়ু বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ‘আলফাজিও’ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বিশ্বের ৭২টি বড় শহরের জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা শহরগুলোর তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ারই আধিপত্য। শীর্ষ ১০ শহরের মধ্যে বাংলাদেশের দুটি, পাকিস্তানের চারটি এবং ভারতের তিনটি শহর রয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের।
আলফাজিও তাদের ‘জলবায়ু ঝুঁকি এবং সহনশীলতা সূচক’ ব্যবহার করে শহরগুলোর ঝুঁকি বিশ্লেষণ করেছে। এতে অতিরিক্ত তাপ, বন্যা, খরা ও দাবানলের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক ঝুঁকি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় শহরগুলোর অভিযোজন সক্ষমতাও হিসাব করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ‘রিসেলিয়েন্স-অ্যাডজাস্টেড রিস্ক (আরএজে)’ স্কোর মূলত একটি শহর তার অভিযোজন সক্ষমতা বিবেচনায় নেয়ার পরও কতটা জলবায়ু ঝুঁকিতে রয়েছে, তা নির্দেশ করে।
আলফাজিওর বিশ্লেষণে ভারতের আহমেদাবাদ এবং পাকিস্তানের হায়দরাবাদ যৌথভাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা বড় শহরের অবস্থানে রয়েছে। উভয় শহরের ‘আরএজে’ স্কোর ৪১।
এর পরের অবস্থানগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের মুলতানের স্কোর ৩৮। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ৩৬ স্কোর নিয়ে উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে। পাকিস্তানের লাহোর এবং ভারতের কলকাতা; দুই শহরের স্কোরই ৩৫। পরের দুই স্থানে পাকিস্তানের দুই শহর ফয়সালাবাদ ও করাচি। তালিকার নয় নম্বরে আছে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে শীর্ষ দশে থাকা একমাত্র শহর তাইওয়ানের রাজধানী তাইপে।
ভারতের আরও কয়েকটি শহরও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। বেঙ্গালুরু তালিকায় ১২তম এবং চেন্নাই ১৫তম অবস্থানে রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকির পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তাপমাত্রার অতিরিক্ত বৃদ্ধি বা হিট এক্সপোজারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটি ১৯০১ সালে দেশব্যাপী তাপমাত্রার রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে সবচেয়ে উষ্ণ বছর পার করেছে। ওই বছর ভারতের গড় ভূমি-পৃষ্ঠের বায়ুর তাপমাত্রা ১৯৯১–২০২০ সময়কালের গড়ের চেয়ে ০.৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
শহরগুলোতে এই উষ্ণতার প্রভাব আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে। ঘনবসতি, কংক্রিটের স্থাপনা এবং অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অতিরিক্ত তাপ ও ভারী বৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব বাড়িয়ে দেয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর শুধু গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোকে একই সঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে অতিরিক্ত তাপ, হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাত, নগর বন্যা এবং পানির সংকটের মতো একাধিক ঝুঁকি।
এম





































-20260911030407.jpg)

