মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেয়ায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা

  • মেহেরপুর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২০, ১১:০২ এএম

মেহেরপুর: মেহেরপুরের গাংনীতে মাদকাসক্ত স্বামীকে মাদক ব্যবসা ছাড়তে বলায় স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অপচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শ্বশুর –শ্বাশুড়ী, স্বামী, ভাসুর জা-এর নির্যাতন সইতে না পেরে নির্যাতিতা গৃহবধূ অবশেষে থানায় অভিযোগ করেছে। দুপুর থেকে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে  অমানুষিক নির্যাতন করে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়ে পা তুলে হত্যার অপচেষ্টা চালায়। মায়ের উপর নির্যাতনের চিত্র তার ৫ বছর বয়সী ছেলে জয় দেখে ফেলায় প্রাণে রক্ষা পাই সেই গৃহবধূ। 

এমন ঘটনাটি ঘটেছে, গত বুধবার দুপুরে অবধি উপজেলার বেতবাড়িয়া নতুন পাড়া গ্রামে। বর্তমানে শরীরে হাজারো আঘাতের চিহ্ন নিয়ে হাত-পা ভাঙ্গা অবস্থায় গাংনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছ্। 

প্রতিবেশী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের মৃত আতাহার আলীর মেয়ে টুনুয়ারা খাতুনের (৩২) সাথে একই গ্রামের নতুন পাড়ার রবগুল মন্ডলের ছেলে নেশাখোর নাসিরউদ্দীনের (৪৫) সাথে বিয়ে হয়। এরই মধ্যে তাদের পরিবারে ৫ বছর বয়সী ছেলে জয় এর জন্ম হয়েছে। বিয়ের পর থেকেই  নাসির আলীসহ তার শ্বশুর- রবগুল হোসেন, হজরতের স্ত্রী আনজিরা খাতুন ও পাঁচু মন্ডলের ছেলে সোলেমান যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। গত বুধবার দুপুরের দিকে স্বামী নাসির ও স্ত্রী টুনুয়ারার মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শ্বশুর ভাসুরের সহযোগিতায় নাসির বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে। স্বামীর অবৈধ ব্যবসায় বাঁধা দেয়ায় নাসির রাগান্বিত হয়ে মারপিট করে গলায় পা তুলে হত্যা চেষ্টা চালায়।

গুরুতর জখম টুনুয়ারা খাতুন জানান, আমার স্বামী একজন মাদক ব্যবসায়ী। ইতেপূর্বে মাদক মামলায় একাধিকবার জেল খেটেছে। আমি উক্ত অবৈধ ব্যবসায় বাঁধা দিলে আমার স্বামী আমাকে মারপিট করে। সেইসাথে আমার শ্বশুর রবগুল, শ্বাশুড়ি, হযরত আলীর স্ত্রী আনজিরা ,হযরত আলীর ছেলে মতিন এবং পাচু মন্ডলের ছেলে সোলেমানও আমাকে মারপিট করে আমার হাত পা ভেঙ্গে দিয়েছে। তারা নাসিরকে বলে আমাকে গলা টিপে হত্যা করতেও হুকুম দেয়। আমার শিশু পুত্র জয় এসব কিছুর স্বাক্ষী। আমি এই নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টার বিচার চাই। 

এই তথ্য সংগ্রহে গাংনী উপজেলার হাসপাতালে গেলে টুনুয়ারা খাতুন যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে কান্নাজড়িত কন্ঠে বললেন, আমার স্বামীর পরিবার আমাকে মেরে ফেলতে চাই। কর্তৃব্যরত ডাক্তার এম কে রেজা জানান, রোগীর সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এক্সরে করে দেখা গেছে, হাত পা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।

এব্যাপারে গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান, ঘটনাটি শুনেছি। টুনুয়ারার একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

সোনালীনিউজ/এও/এসআই