৭৬ বছর পর সরকারি হলো চট্টগ্রামের নাজিরহাট কলেজ

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২৫, ০৮:৪৭ পিএম
ছবি প্রতিনিধি

দীর্ঘ ৭৬ বছর পর অবশেষে সরকারিকরণ হলো চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ঐতিহ্যবাহী নাজিরহাট কলেজ। বুধবার (৮ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (ঢাকা) থেকে এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নাজিরহাট কলেজকে সরকারিকরণের লক্ষ্যে কলেজটির নিয়োগ, পদোন্নতি, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর এবং দৈনন্দিন ব্যয় ছাড়া নগদ ও ব্যাংকে সংরক্ষিত অর্থ ব্যয়ের ওপর আগামী ২১ অক্টোবর ২০২৫ থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সরকারিকরণের প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরিদর্শনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গত ২১ সেপ্টেম্বরের পত্র এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২৮ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনা অনুসরণ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত নাজিরহাট কলেজ উত্তর চট্টগ্রামের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এখানে উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও অনার্স পর্যায়ে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। দীর্ঘদিন ধরে কলেজটি সরকারিকরণের দাবিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা আন্দোলন করে আসছিলেন। ২০১৭ সাল থেকে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা মিছিল, স্মারকলিপি ও নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনার জন্য দূরবর্তী জেলা থেকেও শিক্ষার্থীরা নাজিরহাট কলেজে আসতেন। বিজ্ঞান ল্যাবের মান ও পরিসরের দিক থেকে এটি একসময় চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের পরেই অবস্থান করত। এ কারণে বরিশাল, ভোলা, সন্দীপ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার ও টেকনাফসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসতেন। কলেজটির বিশাল মাঠ, বড় পুকুর, বাগান ও গাছপালায় ঘেরা পরিবেশ ছিল শিক্ষার্থীদের প্রিয় স্থান। এখানে রয়েছে ছাত্রাবাস ও শিক্ষকদের জন্য কোয়ার্টারও।

কলেজটি সরকারিকরণের খবরে এলাকাজুড়ে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও প্রসারিত হবে এবং এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

কলেজের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের (অনার্স) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘নাজিরহাট কলেজের সরকারিকরণে আমি গভীর আনন্দ ও গর্ব অনুভব করছি। এটি শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, আমাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। সরকারি মর্যাদা পাওয়ায় ভর্তি ফি কমবে, বৃত্তি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে, আর শিক্ষার মানও বাড়বে।’

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আগেই প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী কলেজটি সরকারি হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও ভালো সুযোগ পাবে।’

কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক হামিদ সোহেল বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এই কলেজ অনেক আগেই সরকারি হওয়া উচিত ছিল। দেরিতে হলেও হলো। যাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে—বীর মুক্তিযোদ্ধা উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম-আমরা কলেজ পরিবার তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। সরকারিকরণের ফলে বিশেষ করে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে।’

এসএইচ